ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান শুরু করার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ তাদের বাসে তুলে নিয়ে যায়।
এর আগে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ ঘটনার জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারবে না এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাহুলদের কর্মসূচিতে কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি কেরালার বিরোধীদলীয় নেতা ভি ডি সতীশন এবং কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের ওই এলাকা থেকে অবস্থান প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে ফিরে এসে একই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করলেও কংগ্রেস নেতারা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
জানা গেছে, কংগ্রেস নেতারা চার দফা দাবি নিয়ে রাতভর অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার জন্য মোদি সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে আগামী অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ দাবি করেন, সরকার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছিল। তবে পরে কংগ্রেস অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান নেয়।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ‘সংসদ ঘেরাও’ কর্মসূচি পালন করে। সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে দমনমূলক আচরণ করেছে।
