সিলেটে ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতে নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে করে নগরের নিচু এলাকার বেশিরভাগ স্থানই পানিতে ডুবে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এর আগে গত ২ জুন রাতে ও ৯ জুন রাতের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের উপশহর, সোবহানীঘাট, তেরো রতন, মাছিমপুর, তালতলা ও শেখপাড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমেছে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি। সকালে টানা বৃষ্টি হওয়ায় এই পানি এখানে জমা পড়ে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার আর শুরু হয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি।
সিলেটের আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত সিলেটে ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর শনিবার রাত ৯ টা থেকে ১২ পর্যন্ত ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার থেকে ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যেখানে বিপদসীমা ৯.৪৫ মিটার। আর বাকি পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও রোববার বিকেল থেকে ৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নগরের অভিজাত এলাকা উপশহরের বাসিন্দা আল আমিন আহমদ জানান, প্রতিনিয়ত পানিতে ডুবে যাওয়ার জন্য এই এলাকা যেন নির্ধারিত হয়ে গেছে। অল্প বৃষ্টি হলেই শুরু হয় জলাবদ্ধতা। যার কারণে বাসার বাইরে যাওয়াই যায় না। সকালের বুষ্টিতে আবারো জলাবদ্ধতার সুষ্টি হইছে আর অনেক বাসার নিচতলায় পানিও ঢুকেছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, ‘পানিতে সুরমা নদী ভরপুর। আর সিলেটে ইদানীং রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। যার কারণে সাথে সাথে এই পানি যেতে পারে না। আর জলাবদ্ধতার জন্য নগরের বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে। ড্রেনের যেদিক দিয়ে পানি যাবে, সেই দিকে নগরবাসী ময়লা-আবর্জনা ফেলে মুখ বন্ধ করে দেন। যার কারণে পানি যেতে পারে না। এতে করে আটকে যায় পানি।’
