পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারু ক বলেছেন, বন্যার হাত থেকে সিলেট শহরকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন নদী খননের (ড্রেজিং) একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে প্রতিটি নদী ড্রেজিংয়ের পদক্ষেপ নেয়া হবে। নদী ভাঙ্গণ ও প্লাবন থেকে লোকজনকে রক্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ড্রেজিং স্টেশন স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট শহরতলীর টুকেরবাজারে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনশেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী এদিন সকালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেটে এসে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে সাথে তিনি ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন বলে প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা আমাদের আমাদের বাপ-দাদারা দেখেছে, আমরাও দেখছি, পরবর্তী প্রজন্মও দেখবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উজানে অধিক বৃষ্টিপাতের প্রভাব আমাদের বন্যা। ভাটির দেশ হিসেবে উজানের পানি আমাদের দিকে প্রবাহিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের দেশ।
তিনি বলেন, বন্যার ক্ষয়-ক্ষতিরোধে সরকার থেমে নেই। আমরা ঘরে বসে নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের মন্ত্রীরা বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন। বুধবার ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং আজ আমি পরিদর্শনে এসেছি। কোন কোন এলাকা ফ্লাডেড হয়েছে আমরা তা সরেজমিনে দেখবো এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
দেশের দীর্ঘতম নদী সুরমার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, এ নদীর অনেক স্থানে চর পড়ে গেছে, অনেক এলাকা উচু হয়ে গেছে। ড্রেজিং করা গেলে হয়তো আমরা বন্যার পানি বঙ্গোপসাগরে নিয়ে যেতে পারবো। তবে, নদী খননের ক্ষেত্রে কেবল সরকারের একার নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়বদ্ধতা আছে। তিনি বলেন, পলিথিনের কারণে সুরমায় ড্রেজিং বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে সুরমার ১২ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং হয়েছে, বাকি ৩ কিলোমিটার বাকি রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ড্রেজিংয়ের দুই বছরের মাথায় নদী আবার ভরাট হয়ে যায়। বিশেষ করে বন্যার পানির সাথে ১.২ মিলিয়ন টন পলি আসে। এজন্য ড্রেজিং কন্টিনিউ করতে হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিঠামইন সড়কের কারণে যদি সিলেট অঞ্চলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে সে ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
