বুধবার , ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৫৮

বন্যার পদধ্বনি, বোরো ধান নিয়ে সংকটে কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের তিন জেলাসহ উত্তর পূর্বাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলে নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। প্লাবিত হতে পারে নতুন নতুন জেলা- এমনটি জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

ইতোমধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে, জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধান কর্তনে জটিলতা বাড়ছেই। প্রবল বর্ষণে হাওর তলিয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কারণে কৃষকরা মাঠে লড়াই করছে ধান কাটার জন্য। অধিকাংশ হাওরে পাকা ধানই পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ধান কাটতে মরিয়া হাওরাঞ্চলের কৃষকরা।

তবে ধান কাটার জন্য মিলছে না শ্রমিক, পানির কারণে নামানো যাচ্ছেনা কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনও। এতে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অতিরিক্ত শ্রম ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সংকট উত্তোরণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটায় সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলা কৃষি অফিস।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, এ বছর হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে মোট ২২ হাজার ৬১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ১৮ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে—যা মোট আবাদকৃত ধানের প্রায় ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে নন-হাওর এলাকায় ৪ হাজার ২৪১ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এর মাত্র ১০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং এসব জমি তেমন ঝুঁকিতে নেই।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে জামালগঞ্জে আনসার বাহিনীর সদস্যরা এক কৃষাণীর ধান কেটে সহায়তা করেছেন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করে কৃষকদের ঘরে বৈশাখী ধান তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে; এবং নদীগুলো প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।

পাউবো জানিয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, এ অঞ্চলে আগামী ৩ দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা পানির সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। ৩য় দিন কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং সুরমা নদীর পানির সমতল সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানির সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। খোয়াই ও জুড়ি নদী আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে। ফলে মৌলভীবাজার জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।