#২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি সংগঠনের অনুদান উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে গ্রহণ করা হয়; নেতারা বলছেন, তহবিল জরুরি সেবায় ব্যয় করা হবে।
সিলেটের সকাল ডেস্ক : সিলেটের ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জরুরি সহায়তা জোরদার করতে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া ত্রাণ তহবিল গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে গ্রহণ করা হয়েছে। তহবিল গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মনসুর আহমদ।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অনুদানের অর্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর প্রাথমিক চাহিদা পূরণ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সালের বন্যায় সিলেটের বহু এলাকা দীর্ঘ সময় পানিবন্দী ছিল। স্কুল-কলেজ, সরকারি স্থাপনা ও স্থানীয় অবকাঠামোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। সেসব আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শিশু খাদ্য, নারী ও বয়স্কদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, প্রবাসী কমিউনিটি ও স্বেচ্ছাসেবীরা ত্রাণ তৎপরতায় এগিয়ে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি সংগঠনের অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত এই তহবিল আশ্রয়কেন্দ্র-ভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ত্রাণ তহবিল গ্রহণকালে মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, “বন্যার সময় মানুষ সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে নিরাপদ আশ্রয়, খাবার পানি এবং চিকিৎসা নিয়ে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো না গেলে দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা চাই প্রতিটি টাকা যেন বাস্তবে উপকারে আসে, বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রের নারী-শিশু ও অসুস্থ মানুষদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে।”
উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মনসুর আহমদ বলেন, “বন্যা মানুষের জন্য শুধু পানি নয়, এটি এক ধরনের অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা পরিবারগুলোর সম্মান ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যতটা সম্ভব বজায় রাখতে হলে সংগঠিত সহায়তা দরকার। এই তহবিল আমরা আশ্রয়কেন্দ্রভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগাব—বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শুকনো খাবার, শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং পরিচ্ছন্নতা উপকরণে অগ্রাধিকার থাকবে।”
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তালিকা ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বিবেচনা করে ধাপে ধাপে সহায়তা বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী সময়ে যেসব পরিবার বাড়ি ফিরতে পারলেও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, রান্না বা পানীয় জলের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে—তাদের দিকেও সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।
সিলেট অঞ্চলে ২০২২ সালের বন্যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে পানি বাড়ে; বহু এলাকা প্লাবিত হয়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র হয়। ওই সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নামায় ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও দ্রুততার প্রয়োজন দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন দুর্যোগে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক ও সংগঠিত উদ্যোগ জরুরি—কারণ মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক চাহিদা দ্রুত বদলে যায়।
ত্রাণ তহবিল গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা জানান, দুর্যোগকালীন সহায়তাকে আরও কার্যকর করতে আগামীতে সমন্বিত ত্রাণ তৎপরতা এবং আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
