নিজের অদম্য শক্তিতে অনেক বাঁধা আর নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এখন কলেজ শিক্ষার্থী মৌলভীবাজারের জুড়ীর মনা বেগম। জন্মগত শারিরীক প্রতিবন্ধীত্বও তাকে আটকাতে পারে নি উচ্চশিক্ষা অর্জনে। তাইতো হাটি হাটি পা পা করে মনা আজ স্কুল, মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। মনা এবার শাহ নিমাত্রা সাগরনাল ফুলতলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। সে স্বপ্ন দেখে একদিন শিক্ষক হয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিবে, পরিবারের হাল ধরবে। শত বাধা তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা মনা এখন এলাকাবাসীর কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
মনা বেগম মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের এলাপুর চা বাগানের বাসিন্দা। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার অনেক আগ্রহ। সমাজের আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক নয় তার জীবন। জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী সে। নিজের এক পা ও এক হাতের উপর ভর দিয়ে চলাফেরা করতে হয় তাকে।
শামসউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে মনা । এখন শাহ নিমাত্রা সাগরনাল ফুলতলা ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সে।
মনা বেগম বলেন, “আমার বাবা একজন কৃষক, অন্যের জমি চাষ করেন। আমার আরো ২ ভাই-বোন লেখাপড়া করছে। তাদের পড়ালেখার খরচ যোগাতে বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। আমাদের অভাব অনটনের সংসার।”
মনা বেগম আরও জানান, “আমার হাঁটতে অনেক কষ্ট হয়। অন্যান্যদের মতো চলাফেরা করতে পারি না, তারপরও আমি পড়ালেখা বাদ দিবো না। আমার ইচ্ছা আমি একজন শিক্ষক হবো। এটাই আমার আসল স্বপ্ন। আমি মনে করি সেই স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে।”
মনার বাবা বলেন, “আমি একজন কৃষক। আমার ৫ সন্তানের মধ্যে মনা বেগম ৩য় এবং আমার ৩ সন্তান লেখাপড়া করছে। তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া আমার জন্যে অনেক কস্টকর।”
শাহ নিমাত্রা সাগরনাল ফুলতলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন বলেন, “মনা বেগম বর্তমান সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সে দেখিয়ে দিচ্ছে যে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো কিছুই বাঁধা হতে পারে না। আমি সর্বদা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি।”
