বকেয়া বেতন প্রদানের দাবি ও বাগানের জায়গায় দোকানকোটা নির্মাণের প্রতিবাদ এবং সেগুলো উচ্ছেদের দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছে সিলেট নগরীর তারাপুর চা-বাগানের শ্রমিকরা। আজ শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা তারাপুর চা বাগানের ভেতরের গোয়াবাড়ি রাস্তা অবরোধ করেন। পরে পঞ্চায়েত কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে দুপুর ১টার দিকে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাগানের ব্যবস্থাপক।
আন্দোলনরত চা শ্রমিক সঞ্জীব রায় বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বেতনের বকেয়া টাকাগুলো পুরো আমরা এখনো পাইনি। এছাড়া গত দুই সপ্তাহের রানিং বেতনও আটকা পড়েছে। আমরা বেতন প্রদানের দাবি জানালে বাগানের মালিকপক্ষ, বিশেষ করে ম্যানেজার আমাদের হুমকি-ধমকি প্রদান করেন। এছাড়াও রাগীব আলী মেডিকেলের পাশে তারাপুর চা বাগানের কিছু জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এই জায়গায় ৩টি দোকানকোটা নির্মাণ করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে এসব কাজ হয়। আমরা এসব নির্মাণাধীন দোকানকোটা উচ্ছেদের দাবি জানাই।’
তিনি আরও বলেন- ‘দুপুরের বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায় আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, কাজে যাচ্ছি না। সন্ধ্যায় আমাদের পঞ্চায়েত কমিটির বৈঠক রয়েছে। বৈঠক থেকে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।’
চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রাজু গোয়ালা জানান, গত বৃহস্পতিবারের মজুরি চা শ্রমিকরা পাননি। ফলে তারা রাস্তায় নামেন। এমনকি বাগান এলাকায় একটি দোকান নির্মাণ নিয়েও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ।
তারাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তী জানান, শ্রমিকরা বাগান বন্ধ রেখেছেন। সেজন্য তাদের বেতন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বাগানে দোকান নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নতুন করে কোনো দোকান নির্মাণ হয়নি, আগে থেকে চালু একটি দোকান সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বাগানের আয়ের জন্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তা করা হচ্ছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আমরা গিয়ে অবরোধ তুলে দেই। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সন্ধ্যার পর তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করবেন।
