সকল ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছেন এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেট জোন নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, আটাব সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংগঠন। এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্টদের একমাত্র সংগঠন আটাব সরকারের সহযোগী হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় আটাব ভেঙ্গে প্রশাসক বসানোর ষড়যন্ত্র করছে। মূলত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থা নেয়ায় একটি মহল এমন ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু, ঐক্যবদ্ধ আটাব-এর কাছে ষড়যন্ত্রকারীরা পরাস্ত হবে।
বুধবার বিকেলে সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজারস্থ আটাব, সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ে ‘এয়ার টিকেট সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে আটাবের অবস্থান গ্রহণ ও আটাব কমিটি বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশের বিরুদ্ধে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আটাব সিলেট জোনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান খান রেজওয়ান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতি ২ বছর অন্তর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আটাব পরিচালিত হয়। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি সকল সদস্যের ব্যবসা করার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ও এয়ার টিকেট মার্কেটকে কুক্ষিগত করে রাখা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান আটাব কার্যনির্বাহী কমিটি যদি কোন ভাবে আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট হতো তাহলে গত ৫ আগষ্টের পর পরই অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনের ন্যায় আটাব সভাপতি, মহাসচিব ও কমিটির সদস্যগণ দেশ থেকে পালিয়ে যেত।
আটাব সিলেট জোন সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, এই অরাজনৈতিক সংগঠনটির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে সিন্ডিকেটকারীরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আটাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি, মহাসচিব ও বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আটাবের সর্বাত্মক সহযোগিতায় এয়ার টিকেটের মূল্য কমিয়ে সরকারি পরিপত্র জারির পর সিন্ডিকেট করার সুযোগ না পেয়ে আটাব কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। মহাসচিব ও কমিটির সম্মানহানি করার লক্ষ্যে বিভ্রন্তি ছড়ানো হচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোফরান চৌধুরী নামে আটাবের এক সাধারণ সদস্যের ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সদস্যবান্ধব আটাব কমিটি কেন বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে। এমন চিঠি পেয়ে আটাব সদস্যরা হতবাক ও বিস্মিত হয়েছেন। কোন প্রকার তদন্ত, সত্যতা যাচাই বা শুনানি না করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, এজেন্সি, এয়ার টিকেটের মূল্য বাড়িয়ে ফায়দা লুটতে চায়-তাদের বিরুদ্ধে আটাব সোচ্চার হয়ে সরকারের সহযোগিতায় কাজ করে যাবে বলেও জানানো হয়।
আটাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১৯৭৬ সালে আটাব প্রতিষ্ঠার পর সদস্যদের কল্যাণের পাশাপাশি এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে সাড়ে ৪ হাজার আটাব সদস্য রয়েছেন। সিলেটে রয়েছেন ২৫০ জন সদস্য। নির্বাচনে দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নির্বাচন করলেও সাংগঠনিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিলেটের আটাব সদস্যরা একমত পোষণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আটাব সিলেট জোনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ আতাউর রহমান, খন্দকার শিপার আহমদ, আব্দুল কাইয়ূম, মনসুর আলী খান, মোতাহার হোসেন বাবুল, জহিরুল কবির চৌধুরী শিরু, সিলেট জোনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান রুশো চৌধুরী, সৈয়দ আব্দুল কুদ্দুছ, আব্দুল কাদির, তাজুল ইসলাম, মুহিবুল হক, ইসরাক আহমদ রকি প্রমুখ।
