সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা ভেঙে ৪৭ শতাংশ কৃষি জমি দখল, হালচাষ ও চারা রোপণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্র ও শনিবার উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, স্থানীয় হোসেন আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, সিরাজ মিয়া, রফিক মিয়া, মধুু সরকার, নুর মিয়াসহ ৩০-৪০ জনের সংঘবদ্ধ দল জমিতে চারা রোপণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, এ অভিযোগের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন হোসেন আহমদ। তিনি বলেন, ‘ক্রয়সূত্রে এ জমির মালিক সিরাজ মিয়া। নিজ জমিতেই তিনি ধানের চারা লাগিয়েছেন। ১০ বছর ধরে তিনিই ভোগদখলে আছেন। তিনি এ জমি কেনেন আমার চাচাতো ভাই নাসিরের কাছ থেকে। নাসির কেনেন আমার কাছ থেকে। এই জমিতে আদালতের কোন আদেশ জারি হয়নি। জারি হয়েছে অন্য জমিতে।’
জানা গেছে, ক্রয়সূত্রে তৈমুরনগর মৌজায় এসএ ১১৪ ও ৪১৮ নম্বর দাগে ৪৭ দশমিক ৫০ শতক জমির মালিক আপ্তাব আলী ও তাঁর পরিবার। তাঁরা সেখানে ফসলাদি ফলাইয়া আসছেন। একই দাগে হোসেন আহমদ, আব্দুন নুর ও আব্দুল কাইয়ুমের জমি রয়েছে। তবে, তারা আপ্তাবের জমিরও মালিকানা দাবি করছেন। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার তারা আপ্তাবকে ওই জমিতে চাষাবাদে বাঁধা দেন। জোরপূর্বক দখলে নেয়ারও পাঁয়তারা চলে। জমি দখলের এ চেষ্টা নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আপ্তাব। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট-এর উপপরিদর্শক সঞ্জয় লাল দেব। আদালতে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি হোসেন আহমেদ, তার ভাই জালাল আহমেদ ও ফুজেল আহমেদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৪০৬ ও ৪২০ ধারার অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, গত ২০ আগস্ট আদালত বিরোধপূর্ণ ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিতে হালচাষ করেন হোসেন আহমেদের লোকজন। এ অবস্থায় এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় খুন-খারাবির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জুর রহমান জানান, আদালতের ১৪৪ ধারার এই নোটিশ উভয় পক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কেউ ভঙ্গ করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে।
এ বিষয়ে আপ্তাব আলী বলেন, আমার মালিকানাধীন ৪৭ শতাংশ জমি শতভাগ নিষ্কণ্টক।
আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও ভূমি দস্যুরা সেই নির্দেশনা মানতে নারাজ। জোর করে তারা জমিতে হালচাষ করে ধানের চারা রোপণ করেছেন। আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি আইন মান্যকারী লোক। তাই আইনি প্রতিকার পেতে লড়াই করছি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে হালচাষ সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
