হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বিএনপির ব্যাপক সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে রিপন শীল (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক।
নিহত রিপন শীল হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর এলাকার রতন শীলের ছেলে।
আহতদের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে হবিগঞ্জ–৩ আসনের এমপি আবু জাহিরের বাসভবন। আগুন দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি মো. আবু জাহির। রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনী এসে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে সার্কিট হাউসে সেনা নিরাপত্তায় রয়েছেন।
আজ রোববার দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শহরের থানার মোড় থেকে কালিবাড়ী ক্রসরোড এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শহরের বৃন্দাবন কলেজ রোড প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সেখানে জড়ো হয় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা। মিছিল সহকারে তারা শহরের প্রধান সড়কে দিয়ে আসতে থাকে। পথিমধ্যে হবিগঞ্জ সদর থানা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীরা। পরে শহরের টাউন হল সড়কে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি ও আন্দোলনকারীরা। সংঘর্ষ হয় টানা কয়েক ঘণ্টা। এতে গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয় (বল্লম) শতাধিক মানুষ।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) নূরে আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহতের খবর শুনেছি।
