সিলেটে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাব ও দুদিনের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এসময় বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। সিলেটের প্রধান নদী সুরমার পানি একটি পয়েন্টে মাত্র ২১ ঘণ্টায় বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। এমতাবস্থায় সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটে গত ২ সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র দাবদাহের পর রোববার রাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। টানা দুইদিনের এই বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হতে শুরু করেছে জেলার নিম্নাঞ্চল। আর এসময় বাড়তে শুরু করেছে নদনদীর পানি। বর্তমানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে করে জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরে বাড়তে শুরু করেছে পানি। আর এতে করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে চলেছে। আর টানা বৃষ্টির কারণে নগরের অনেক জায়গা বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ভারী বৃষ্টির ফলে নগরের শাহজালাল উপশহর, বিমানবন্দর, মেজরটিলা, শাহপরাণ ও দক্ষিণসুরমার রেল স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জায়গা প্লাবিত হয়। অনেক এলাকায় সড়কে হাঁটুপানি দেখা গেছে। সড়ক উপচে পানি ঢুকে পড়ে মানুষের বাসা-বাড়িতে। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঢুকে পড়ে পানি।
নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা জুয়েল আহমদ বলেন, কাল রাত ১২টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছি। যার কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আর রাস্তাঘাটে পানিতো বৃষ্টি এলেই শুরু হয়ে যায়। এভাবে আর কতদিন চলবে?
সিলেট আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সোহেল আহমদ জানান- মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সিলেটে ৮৮.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিন সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময়ে ঝড় হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, ভারতে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে সিলেটের নদীর পান বাড়া-কমা। যেকারণে ভারতে বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে সিলেটেও পানি বাড়তেছে। আজকের সারাদিনে সিলেটে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ মিটার পানি বাড়তেছে। সুরমা এখন ভরা নদী। পানি আরো বাড়বে।
