বৃহস্পতিবার , ২৬ জুন ২০২৫, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় ১ জনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
জুন ২৬, ২০২৫ ৮:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটে একই রোল নম্বর সম্বলিত প্রবেশপত্র নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে এক ছাত্রী আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে সিলেট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম তাহমিনা আক্তার। তিনি সিলেটের মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী।

বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা, জেলা ব্রান্ডিং ও পর্যটন সেল) মাহমুদ আশিক কবির। তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষার ৩ ধারায় বলা আছে এরকম শাস্তি করলে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অভিযোগে তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

কলেজ সুত্রে জানা যায়, সিলেট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন সিলেটের মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরে যখন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড স্ক্যান করতে যান, তখন দেখা যায় একই রোলের ২ শিক্ষার্থী। পরে সেখানে ফয়জিয়া আক্তার নামে শিক্ষার্থীর স্ক্যান নিলে অপর শিক্ষার্থী মোছা. তাহমিনা আক্তারের প্রবেশপত্র জাল বলে ধরা পড়েন। তখনই তাকে সেখান থেকে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে নিয়ে আসা হয়। পরে তিনি প্রশাসনকে জানালে সেখানে মোবাইল কোর্ট তাৎক্ষণিক তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। পরে ওই শিক্ষার্থী পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

আটক তাহমিনা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফি না দেওয়ায় তার বোনজামাই একজন দালালের মাধ্যমে টাকা জমা দেন এবং প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে এসে জানতে পারেন সেটি ভূয়া। আমি কিছুই জানতাম না। আমার বোন জামাই বিষয়টি করেছেন। সে বর্তমানে অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। এই বলে সে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, এই বিষয়ের জন্য এভাবে তাকে এরকম শাস্তি দেওয়াটা উচিত হয়নি। তদন্ত করে যে তাকে এই জাল প্রবেশপত্র দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। আর এটা বোর্ডকে জানালে ভালো হতো। তারা উপস্থিত সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট এনেই কারাদণ্ড দিয়ে দিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ জেড এম মাঈনুল হোসেন বলেন, ভূয়া এডমিট কার্ড থাকায় ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেন নি।

এবিষয়ে মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহবুবুর রহমান জানান, সে ফরম ফিলাপ করে নাই। আমরা ওয়েবসাইটে ডাউনলোড করার জন্য যে প্রবেশপত্রগুলো দিয়েছি, সেখানেও তার প্রবেশপত্র নেই। তার ক্লাস রোল নম্বর জানা ছাড়া এই মুহূর্তে বলতে পারছি না সে আমাদের শিক্ষার্থী কি না। আমার মনে হয় না সে আমাদের এখানে ফরম ফিলাপ করেছে এবং এরকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নাই।

সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, তারা আমাদেরকে জানায় নি। তবে ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় কেউ এভাবে কোনো কিছু করাটাও অপরাধ। সেকারণে ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে গিয়ে এই শাস্তি দিয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে শাস্তি দিতে পারবেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।