খেলাফত মজলিসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচল, আস্থার সংকট, রাজনৈতিক স্থিলিশীলতার অভাব, সন্ত্রাসবাদ সহিংসতা বাংলাদেশের রাজনীতির সাধারণ চিত্রে পরিনত হয়েছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক দলীয়করণ এবং ভোট ও ভাতের অধিকারের সংগ্রাম জনগণকে প্রতিনিয়ত করতে হচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন এবং জবাবদিহিতামূলক সরকার জনগণের কাছে আজ সোনার হরিণের মত। খেলাফত মজলিস মনে করে, সংলাপ সমঝোতার মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি সুস্থ্যধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। একইসাথে আমলা ও বিদেশ নির্ভর রাজনৈতিক চর্চা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা সময়ের দাবী। এ পরনির্ভর তাবেদারি রাজনীতি আমাদের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।
আজ বুধবার (১৯ জুলাই) বেলা ২টায় নগরীর জিন্দাবাজারস্থ হোটেল গোল্ডেন সিটি কনফারেন্স হলে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবীসহ ৮ দফা দাবীতে খেলাফত মজলিস ঘোষিত সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশ আজ স্পষ্টতই ভিন্ন দুইটি বিপরীত মেরুতে বিভক্ত। এক পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করে ক্ষমতায় থাকার জন্য মরিয়া। তারা ক্ষমতার মোহে বুঁদ হয়ে আছে, জনগণের ভাষা তারা বুঝতে ব্যর্থ। অপরদিকে ভোটাধিকার বঞ্চিত জনতা ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজনের দাবীতে একাট্টা। এমনি একটি মুহূর্তে জাতির বিবেক খ্যাত সাংবাদিক বন্ধুগণ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারেন না। জাতীয় প্রয়োজনে পেশাগত অবস্থান থেকে অতীতের মত সোচ্চার ভূমিকা পালন সময়ের দাবী।
খেলাফত মজলিস জাতীয় সংকট নিরসন এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবীসহ ৮ দফা দাবীতে তিনি তুলে ধরেন। তার ৮ দফা দাবি হলো- দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, নির্বাচনে সবার জন্যে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখা, গ্রেফতারকৃত আলেম-উলামা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করা, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিতকরণ, পণ্যমূল্য কমিয়ে জনদূর্ভোগ লাঘব ও দুর্নীতি নির্মূল করা, বেকার সমস্যা সমাধান ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারী চাকুরীতে নিয়োগ দান, ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচন নীতি পরিহার করা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এসব ন্যায্য দাবীতে রাজপথে আন্দোলন করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ইতোমধ্যে সারা দেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই কুমিল্লা ২১ জুলাই ময়মনসিংহ-২২ জুলাই সিলেট ও জুলাই বরিশাল, ২৭ জুলাই খুলনা এবং ২৯ জুলাই ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে । এসব সমাবেশের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে আমাদের ন্যায্য দাবীসমূহের সপক্ষে জনগণকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি।
মুনতাসির আলী বলেন, আগামী ২২ জুলাই, শনিবার, বেলা ২ টায়, সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্টারী মাঠে সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে সিলেট বিভাগের সকল উপজেলা থেকে আমাদের নেতা-কর্মীদের ঢল নামবে বলে আমরা আশাবাদী। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ড. আহমদ আবদুল কাদের, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন দলের নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সময়ে অসময়ে, বেলা-অবেলায়, দুভোর্গ-দুযোর্গ ও রাজনৈতিক সংকটের ভেতর বাংলাদেশ ঠিকে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ ও সামগ্রিক সাফল্য-অগ্রগতিতে যেটুকু সরকারের ভূমিকা তার চে বেশি অবদান দেশের সংগ্রামী-পরিশ্রমী জনগণের । জনগণই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ ও উন্নয়নের চাবিকাঠি । জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, আন্দোলন সংগ্রামে দুর্যোগ ঘনঘটা কাটিয়ে ছিনিয়ে আনবে আলোর দিশা।
সিলেটের সকাল/ লবীব
