সিলেট সরকারী কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ও খুনি হিরণ মাহমুদ নিপুসহ সন্ত্রাসী বাহিনীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে নগরের কোর্টের সামনে সচেতন মহল সিলেটের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিহত আরিফের মা আখি বেগমের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আরিয়ান আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী ওবায়দুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আল ইসলাহ একতা কল্যাণ সংস্থার আহবায়ক মো. হেলু আহমদ, জোনাকি সামাজিক কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর বালুচর শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাছুমুর রহমান, ঠিকাদার আব্দুর রহিম মিয়া, মোছা. মনোয়ারা বেগম, মোছা. ফুলেছা বেগম, শাহানা আক্তার সীমা, ফরহাদ আহমদ, সজিব আহমদ, শাকিল আহমদ।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, একটি গরীব অসহায় পরিবারের সন্তান ও সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফকে নৃশংসভাবে নিপু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা যেভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে, সেইভাবে মানুষ কোন হিংস্র প্রাণীকেও হত্যা করে না। দীর্ঘদিন পার হয়েছে আরিফ হত্যার মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনও ধীর গতিতে চলছে। এদিকে হিরন মাহমুদ নিপু ও তার সহযোগীরা লোক মারফতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি প্রদান করছে। মামলায় চার্জশিট থেকে নিপুর নাম বাদ দেওয়ার জন্য চলছে নানান তালবাহানা।
বক্তারা আরিফ হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তে দ্রুত চার্জশিট গঠন করে খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর উত্তর বালুচর এলাকায় মসজিদের সামনে নিপু গ্রুপের জুনেদ, আনাছ, কুদরত, কালা মামুন, শরিফ, হেলাল ও সবুজ মিয়াসহ ১০/১২ জন আরিফের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় আরিফের হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে আহত হয় আরিফ। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২০ নভেম্বর বাড়ি ফিরে সে। রাতে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার ৪ ঘণ্টার মাথায় রাত ১২ টার দিকে আরিফকে ধরে টিভি গেট এলাকায় গোয়ালীছড়া ওয়াকওয়েতে নিয়ে যায় নিপু গ্রুপের ক্যাডাররা। সেখানে আরিফকে উপর্যুপরি কোপানো হয়। এরপর মৃত ভেবে ফেলে যায় তারা। পরে পুলিশ নিপুকে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে মুক্তি পান নিপু।
