মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই ২০২৬, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:২৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
জুলাই ১৪, ২০২৬ ২:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়ে বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আটজন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্করকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অপহরণের অভিযোগে এই তিন আসামিকে আরও ১৪ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আদায়কৃত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদান করা হবে।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল হাসান ওরফে ইসলাম, মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম, মো. আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিছবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামী মামলা দায়েরের আগেই ঘটনাটি জানাজানি হয়েছিল এবং পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল। তবে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে সেই জিডিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যা বিবেচনায় আনা প্রয়োজন ছিল।

এছাড়া ভুক্তভোগীর স্বামী সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এজাহারের কিছু বক্তব্য থেকে সরে এলেও, ধর্ষণের ঘটনায় স্বামীর সম্মতি বা অসম্মতির কোনো আইনগত গুরুত্ব নেই বলে আদালত মন্তব্য করেন। বিচারকের ভাষ্য, কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনই ধর্ষণ। এমনকি কোনো যৌনকর্মীকেও তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য করা হলে সেটিও ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘটনার পটভূমি

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজি আইনেও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাব যৌথ অভিযানে আটজনকেই গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও সহযোগিতার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১১ মে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগও গঠন করা হয়।

গত বছরের মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।