আগামী ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। এদিন দুপুর ১২টায় সিউকের প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনকে ঘিরে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে নবগঠিত এ প্রতিষ্ঠান।
রোববার দুপুরে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রা শুরু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
তিনি জানান, সিউকের আওতাধীন এলাকা নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত এলাকার আয়তন প্রায় ১ হাজার ১৬৮ বর্গকিলোমিটার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত এলাকার পাহাড়, টিলা, নদী ও খালসহ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সিউক চেয়ারম্যান বলেন, সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের আওতায় ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন, নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নিম্নবিত্ত ও বস্তিবাসীদের আবাসন সমস্যা সমাধান, বনায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উড়ালসেতু ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্থায়ী কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তর, দুটি জোনাল অফিস স্থাপন, আবাসন প্রকল্প এলাকায় সবুজায়ন বৃদ্ধি, গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন চালু এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা।
এছাড়া সিলেট-আম্বরখানা সড়কসংলগ্ন আবাসিক এলাকার উন্নয়ন, বাদাঘাট এলাকার আবাসিক উন্নয়ন, নতুন সংযোগ সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিউকের জন্য রাজস্ব খাতে ৬৭টি ক্যাটাগরিতে ৭১৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থায়ী ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছেও আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৌশলী, স্থপতি, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের তালিকাভুক্তির কাজও চলছে।
সিউকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদি উর রহিম জাদিদও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
