বুধবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৩০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিরূপ বক্তব্য ও প্রচারণার বিষয়ে সিলেট চেম্বারের প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক রিপোর্ট
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৪ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহল কর্তৃক বিরূপ বক্তব্য ও প্রচারণার প্রেক্ষিতে সিলেট চেম্বার অব কমার্স ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চেম্বার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুজিবুর রহমান মিন্টু।

সভার শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মহান শহীদদের রুহের মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুজিবুর রহমান মিন্টু বলেন, গত ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকে সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সুনাম ক্ষুণœকরণ ও বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সদস্যগণকে হেয়-প্রতিপন্ন করতে তৎপরতা চালাচ্ছে একটি বিশেষ মহল। তারা চেম্বারকে স্বৈরশাসকের দোসর বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বেআইনীভাবে চেম্বার ঘেরাও করে অফিসে তালা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন, যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বিগত নির্বাচনে পদসংখ্যা ও প্রার্থী সংখ্যা সমান হওয়ায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি, তবে অন্যান্য সকল প্রক্রিয়া বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে মনোনয়নপত্র প্রদানের ব্যাপারে চেম্বারের অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে সম্মতি জানিয়েছেন এবং সহযোগিতাও করেছেন, কিন্তু বর্তমানে সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাদেরই কয়েকজন আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরো বলেন, সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদে সকল বড় দলের অনুসারী ও দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিগণ রয়েছেন, তাই ঢালাওভাবে সকলকে স্বৈরাচারের দোসর বলা কখনই সমীচীন নয়। চেম্বারের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের অনেক পরিচালক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন।

এসময় তিনি জানান, সরকার পতনের পরপরই চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতার জন্য শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে আহতদের সেবায় নিয়োজিত কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার পতনের পর সৃষ্ট বিরূপ পরিস্থিতিতে আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের নিরাপত্তার জন্য সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সভা করেছি। উক্ত সভায় সকল দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের নিরাপত্তায় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন এবং চেম্বারের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তাদের আশ্বাস প্রেক্ষিতে আমরা ব্যবসায়ীদের সাহস ও উদ্দীপনা দিতে নগরীতে মাইকিং এবং যেকোন সমস্যায় চেম্বারের সাথে যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বর চালু করে ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদান করেছি।

তিনি বলেন, দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বর্ধিত সদস্য ফি কমানোর জন্য কিছুদিন পূর্বে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে দাবী উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বর্ধিত ফি চেম্বারের বিগত কমিটির আমলে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা চেম্বারের স্বার্থে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফি প্রদান করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৬ সালের পর থেকে গত ৫৮ বছরে মাত্র দুইবার সদস্য ফি বর্ধিত করা হয়েছে। বিভাগীয় ও ‘এ’ ক্লাস চেম্বার হিসেবে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ফি দেশের অনেক চেম্বারের তুলনায় নিতান্তই কম। তিনি বলেন, চেম্বারের কার্যক্রমের পরিধি অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এবং সেই সাথে ছাপা ও স্টেশনারী খরচ, বিদ্যুৎ বিল, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, সভা-সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন খরচ, স্টাফ বেতন সহ যাবতীয় ক্রমবর্ধমান খরচ সংকুলান করতে পরিচালনা পরিষদ সদস্য ফি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে তথাপি সিলেট চেম্বারের সদস্য ফি এখানো অনেক কম।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সিলেটের ব্যবসায়ীদের জন্য নিবেদিত অরাজনৈতিক বাণিজ্য সংগঠন। এখানে আসা নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হতে পারেন, কিন্তু সিলেট চেম্বারের কার্যক্রম সবসময় ব্যবসায়ীদের কল্যাণে ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবী-দাওয়া আদায়ে সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দ অতীতে বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দ্বারস্থ হয়েছেন এটা সত্যি, তাই বলে চেম্বারকে রাজনৈতিক সংগঠন মনে করা সমীচীন নয়। ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই চেম্বারকে সরকারের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সাথে যথাযথ সম্পর্ক না রেখে কখনই ব্যবসায়ীদের দাবী-দাওয়া আদায় করা সম্ভব নয়।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরো বলেন, যেহেতু দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বর্তমান কমিটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এন্ড ফার্মস কর্তৃক অনুমোদিত একটি দ্বি-বার্ষিক কমিটি সেহেতু জোরপূর্বক চেম্বার ঘেরাও এবং চেম্বারে তালা ঝুলানোর মত ঘোষণা বেআইনী ও নিন্দনীয় বলে আমরা মনে করি। সিলেট চেম্বার বৃহত্তর সিলেটের ব্যবসায়ীদের সম্পদ। তাই সাধারণ ব্যবসায়ীদের চেম্বারের বিরুদ্ধে কোন ধরণের বেআইনী ও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত না হওয়ার জন্য দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বর্তমান পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে। এছাড়াও সিলেট চেম্বারের সুনাম রক্ষা এবং চেম্বারে অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টাকে রুখে দিতে তিনি সিলেটের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সিলেট চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, সিলেট চেম্বার ব্যবসায়ীদের সংগঠন। সরকারের সাথে সম্পর্ক রেখেই ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করতে হয়। গত ডিসেম্বরে সিলেট চেম্বারের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন জাতীয় নির্বাচনের কার্যক্রম চলমান থাকায় এবং রাজনৈতিক কিছু সমস্যার কারণে চেম্বারের নির্বাচন বৃহৎ পরিসরে করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনটি আয়োজন না করলে চেম্বারের সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হতো। তাই বাধ্য হয়েই স্বল্প পরিসরে সিলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়েছে, তবে এখানে সকল দলের অংশগ্রহণ ছিল। তিনি বলেন, চেম্বারে সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হলে প্রশাসক নিয়োগ হতো। তখন ব্যবসায়ীরা আরো বেশী সমস্যার সম্মুখীন হতেন। তবে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য চেম্বার নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানান।

সিলেট চেম্বারের সাবেক সহ সভাপতি ও সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. দিলওয়ার হোসেন বলেন, আমরা সকল ব্যবসায়ীরা ভাই ভাই। এরকম একে অন্যের প্রতি কাঁদা ছোড়াছুড়ি কখনই কাম্য নয়। অনেক প্রতিঘাত, প্রতিকূলতা পেরিয়ে সিলেট চেম্বার আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। এ সংগঠনের সম্মান রক্ষায় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোন স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থে চেম্বার ঘেরাও করে তালাবদ্ধ করবে তা আমরা ব্যবসায়ীরা কখনই মেনে নিব না। তিনি উদ্ভুত বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানান।

সভায় বক্তাগণ সকল ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহবান জানান। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক কাজী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের সাবেক সহ সভাপতি মোঃ আতিক হোসেন, সাবেক পরিচালক মোঃ বশিরুল হক, ব্যবসায়ী নেতা জুবায়ের রকিব চৌধুরী, মোঃ আব্দুর রহমান দুদু, মুফতি নেহাল উদ্দিন, এন. আই. খান, দেওয়ান রুশো চৌধুরী, মোঃ আবুল কালাম, ইলিয়াস উদ্দিন লিপু, শাহজাহান সেলিম বুলবুল, মোঃ আক্কাছ খান, তানিমুল ইসলাম ও সৈয়দ আব্দুল হামিদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী রাজিব, মোঃ আব্দুস সামাদ, ফয়েজ হাসান ফেরদৌস, সায়েম আহমেদ, মোঃ মাহদী সালেহীন, আরিফ হোসেন, মাহবুবুল হাফিজ চৌধুরী মুসফিক, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সদস্য নীহার রঞ্জন দাস, মোঃ খালেদ হোসেনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।