মঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং কমাবে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি

সিলেটের সকাল ডেস্ক ::
মে ১৯, ২০২৬ ৬:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই ঝুঁকি কমাতে প্যাকেটজাত খাবারের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং’ (এফওপিএল) বাস্তবায়ন করা জরুরি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (১৮-১৯ মে) এক সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় “বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং: প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়” শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার এবং পানীয় দেশে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এর মধ্যে ১৯ শতাংশই অকাল মৃত্যু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এই ব্যাপক মৃত্যুর অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

বক্তারা বলেন, সাধারণভাবে প্যাকেটজাত খাবারকে নিরাপদ মনে করা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

২০২৫ সালে করা দেশব্যাপী এক ক্রস-সেকশনাল জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৭ শতাংশ উত্তরদাতা (প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু-কিশোর) সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে থাকেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খাদ্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা ১০৫টি প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ৬৩ শতাংশেই উচ্চমাত্রায় লবণের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

২০২৩ সালের অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রচলিত ২৪টি ব্র্যান্ডের ৯ ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবারের বেশিরভাগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে। অথচ অনেক পণ্যের প্যাকেটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএল-কে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে সেসব দেশে ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদকরাও পণ্যের মান উন্নত করতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তা সচেতনতা তৈরি করতে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা প্রচলনের কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, দেশে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে।”

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ)-এর সেন্টার ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ এন্ড নিউট্রিশনের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, “এফওপিএল ভোক্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে থাকা অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং ক্ষতিকর চর্বি শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত বলেন, “ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালু করা খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-সুপারিশকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ, যা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে ভূমিকা রাখবে।”

জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল ব্যবস্থা দেশের ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)-এর কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।