সিলেটের ওসমানীনগরের চাঞ্চল্যকর জলিল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকা ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে গত বুধবার দুপুরে উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের আবরুছ মিয়ার বাড়ির পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংক থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় আব্দুল জলিলের লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুল জলিল (৪৬) উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নরে পাঁচপাড়া গ্রামের মৃত জাহির উল্যার ছেলে। তাঁর পাঁচ সন্তান রয়েছে। তিনি গত রোববার স্বর্ণ কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ ছিলেন।আর গত ২৫ আগস্ট নিহত জলিলের স্ত্রী মোছা. মাহমুদা বেগম (৪৭) ওসমানীনগর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্তে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
আটককৃতরা হলেন- ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা গ্রামের মৃত আনহার মিয়ার ছেলে কামরান আহমদ (২৮), ওই ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের মৃত তছিম মিয়া ওরফে তবারক আলীর ছেলে মো. ছালেহ মিয়া (২৫) ও তার স্ত্রী হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিগলবাগের মৃত ওয়ারিস মিয়ার মেয়ে মোছা. তামান্না আক্তার ওরফে মাইশা (২০)।
পুলিশ শুক্রবার প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত রোববার রাতে কামরান আহমদ, মো. ছালেহ মিয়া ও মাইশাসহ তাদের সহযোগী এবং আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের পরিকল্পনা ও যোগ-সাজশে আব্দুল জলিলকে তাজপুর বাজারের কামরানের মুদি দোকান থেকে স্বর্ণ বিক্রয়ের কথা বলে কৌশলে অপহরণ করে কাদিপুরের ছালেহ মিয়া ও মাইশার বসত বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং সেখানে তারা জলিলকে ধারালো চাকু দ্বারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ১টি বাথরুমের ময়লার ট্যাংকির ভিতরে চটের বস্তা দিয়ে মুড়িয়ে রাখে। পরে পুলিশ জলিলের স্ত্রীর জিডি পরে তদন্তে নেমে তারা চারজনকে আটক করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মৃত আবরুছ মিয়ার (সাবেক মেম্বার) বসত বাড়ীর পূর্ব দক্ষিণ কোণের একটি বাথরুমের ময়লা ট্যাংকি থেকে চটের বস্তা দ্বারা মোড়ানো আব্দুল জলিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আসামীদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বসতঘর থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু এবং জলিলের ব্যবহৃত স্যামসাং কোম্পানীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হক বলেন, মৃত আব্দুল জলিলের স্ত্রী মোছা. মাহমুদা বেগম (৪৭) বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সেটি বৃহস্পতিবার মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। আসামি সালেহ মিয়া ও মাইশা উভয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত আছে।
