সিলেটে হত্যা ও মাদক মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মশিউর রহমান চৌধুরী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন বলেন,‘মাদকের মামলায় আরও দুই আসামিকে ৫ বছর করে সাজা ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন- হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুলনি চা-বাগানের মৃত মুকুল কুর্মীর ছেলে সুভাস কুর্মী মেটন। রায়ে তাকে আরও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মাদক মামলায় গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম লাখের পাড় গ্রামের হাজি শহীদ উদ্দিন ওরফে শহির আলী ছেলে আব্দুল মালিক লিটন।
মামলার বরাতে পিপি জানান, ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে সবিতা মুন্ডা নামে এক নারীকে প্রেমেরফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বিয়ে করবেন বলে ফোন দিয়ে বের করে নেন সুভাস। পরদিন সকালে গুলনি চা বাগানের একটি কাঁঠাল গাছ থেকে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সবিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ওই নারীর ভাই সুরেন মুন্ডা বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে, এক কেজি হেরোইন বহনের দায়ে আব্দুল মালেক লিটনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলার অপর আসামি মাসুম আহমদ মাসুদ ও দুলাল মিয়া ওরফে দুলাল আহমদকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন একই আদালতের বিচারক।
আর একই মামলায় খালাস প্রাপ্ত চার অভিযুক্তরা হলেন- সোহেল বুনার্জী, ফরিদ মিয়া, হোসেন ও মুকুল মিয়া।
মামলার বরাত দিয়ে পিপি জানান, ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পৌনে ১২টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় হেরোইন বিক্রির অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় আসামি আব্দুল মালেক লিটনের রান্নাঘরের দরজার পাশে স্কুল ব্যাগে থাকা এক কেজি হেরোইন ও হেরোইন সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। আর বসতঘরের খাটের নীচ থেকে সোহেল বুনার্জী ও মাসুম আহমুদকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় গোয়েন্দা থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
