ভারতীয় মিথানল বাহী ট্যাংকলরীতে অগ্নীকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের সময়ে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে এই অগ্নীকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় পোর্টে থাকা ভারতীয় মিথানল বাহী অন্যান্য ট্যাংকলরী ও আমদানী করা পাথর, কয়লা বোঝাই ভারতীয় শত শত ট্রাকগুলি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণ ভয় ও আতংকে কয়েক হাজার শ্রমিক-জনতা দিক-বিদিক ছুটা ছুটি করে নিরাপদে চলে যান। তাৎকনিক ভাবে ভারতীয় ডাউকি পোর্টে থাকা তাদের ফায়ার সার্ভিসের পানি বাহী গাড়ি এসে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
খবর পেয়ে জৈন্তাপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইন্সপেক্টর আল-আমীনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সময়ে মিথানল বিহীন খালাস গাড়ি ছিল এবং গাড়ির সামনের অংশে আগুন লেগেছিল।
জানা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পোশাক ফ্যাক্টরির কাঁচামাল হিসাবে এবং জ্বালানি সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার যোগ্য মিথানল (উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক/বিপদজ্জনক বিস্ফোরক পদার্থ) সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে খালাস অপেক্ষায় আইনি নানা জটিলতায় কারণে এক সপ্তাহ ডাউকি স্থলবন্দরেই ছিল মিথানল বহনকরী ট্যাংকলরি। এরপর থেকে নিয়মিত মিথানল পদার্থ বহনকারী ট্যাংকলরি বাংলাদেশে প্রবেশ করে আসছে। বিপজ্জনক হওয়ায় মিথানল বহনকারী ট্যাংকলরি প্রবেশে নিরৎসাহিত করছেন স্থানীয় আমদানীকারক ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
তামাবিল স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আসাম রাজ্যের পার্বতপুর ডিব্ৰুগড় পেট্রাকেমিক্যাল থেকে সংগ্রহ করে বাংলাদেশি টি কে গ্রুপ অব কোম্পানি মিথানল আমদানি করে আসছে। এছাড়া তাদের অপর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সামু দ্যা স্বপ্যাক কেমিক্যাল লি: এসব মিথানল আমদানী করে আসছে। এসব পদার্থ সরকারি বিধিমালা অনুয়ায়ী আমদানি করা হচ্ছে বলে কাস্টমস নিশ্চিত করে।
তবে তামাবিল কাস্টমসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, তামাবিল স্থলবন্দরে এসব রাসায়নিক পদার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মত প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ল্যাব বা টেস্ট মেশিন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ভারতের ডাউকি স্থলবন্দরেও মিথানল নিরাপদে রাখার মতো কোন সুযোগ-সুবিধা নেই।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বৈধতা থাকলেও মারাত্বক ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মিথানল প্রদার্থ আমদানি করার কোন সুযোগ নেই। একমাত্র চট্রগ্রাম বন্দর দিয়ে মিথানল আমদানি করা হয়ে থাকে।
এদিকে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে বিপদজনক উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক প্রদার্থ আমদানি নিয়ে ব্যবসায়ী মহল, বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা উদ্বোগ প্রকাশ করেছেন।
তামাবিল স্থলবন্দরে কেমিক্যাল ল্যাব, সুরক্ষিত জোন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ- সুবিধা না থাকার পরও কি ভাবে বিপদজনক রাসায়নিক প্রদার্থ মিথানল আমদানি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি দেন বিষয়’টি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এবিষয়ে তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক আমিরুল হক জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে ভষিষ্যতে কঠোর সর্তকতা ও নিরাপদ দূরত্ব স্থানে মিথানল খালাসের উদ্যােগ করা হবে। আমরা তামাবিল স্থলবন্দর স্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ-কে জানিয়েছি।
