বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা সাহেদ আহমদ মুছা আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গোয়ালাবাজার থেকে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোনায়েম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাহেদ আহমদ মুসার পদত্যাগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুইটি গ্রুপের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান মুসার পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা এবং একই সময়ে চেয়ারম্যানের পক্ষে শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। এসময় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি নেতা শাহ ইয়াহইয়া ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দুইটি গ্রুপ মিছিল নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এরপর শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত না করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন করে। স্থানীয় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরাও এর আগের দিন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করার জন্য লিখিত আবেদন জমা দেন।
দুপুর ১টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ পারভীন বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মুসাকে অফিসিয়াল কার্যক্রম না করার নির্দেশ দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,ওসমানীগর থানার ওসি মোনায়েম মিয়া, ওসি (তদন্ত) আরাফাত জাহান চৌধুরী, বিএনপি নেতা শাহ ইয়াহইয়া, সৈয়দ হুমায়েল আহমদ। বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গোয়ালাবাজার থেকে সিলেট ডিবি পুলিশের একটি টিম চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মুসাকে আটক করে সিলেটে নিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে শেরপুর গোলচত্বরে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলন করে স্থানীয় ছাত্র জনতা। তখন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চেয়ারম্যান মুসা ইউপি সদস্য সামসুল ইসলাম শামিমকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান । সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলে তার পদত্যাগের দাবীতে স্থানীয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা দাবি তুলেন।
