সিলেটের জাফলংয়ের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকিতে পড়েছে ওই এলাকার পরিবেশ। ইসিএভুক্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরে উদ্যোগে এক যৌথ অভিযান (টাস্কফোর্স) চালানো হয়। এতে ৭০০ টি বারকি নৌকা সহ বালু, পাথর জব্দসহ পাথর ভাঙ্গা মেশিন, ইঞ্জিন নৌকা, শ্যালো বোমা মেশিন, ট্রাক ও পে-লোডার জব্দ করা হয়।
সোমবার ভোররাত থেকে হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযানে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী ৭০০ টি বারকি নৌকা, আনুমানিক ৮ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট বালু, ১৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দসহ ২ টি পাথর ভাঙ্গা মেশিন, ৮ টি ইঞ্জিন নৌকা, ২ টি শ্যালো বোমা মেশিন, ৩ টি ট্রাক, ৩ টি ডাম ট্রাক ও ২ টি পে-লোডার জব্দ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহশিলদার ও বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রণয়ন এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের নিরাপত্তা বিধানে আনসার, গ্রাম-পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য এসব মালামালের জিম্মাদার হিসেবে রয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ভোর সাড়ে ৫ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিজিবি, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়ে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে পর্যটন কেন্দ্রটির সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ হুমকিতে পড়ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাফলংকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। এর আগে পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জাফলংকে ইসিএ ঘোষণার নির্দেশনা দেন আদালত। ইসিএ ঘোষণার পর জাফলং থেকে সব ধরনের বালু ও পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী বালু-পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে জাফলংয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
