রবিবার , ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:১২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পূজার ছুটিতে প্রতিদিন সিলেট ঘুরছেন লক্ষাধিক পর্যটক

ডেস্ক রিপোর্ট
অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শারদীয় দূর্গাপূজার টানা ৪ দিনের ছুটিতে পর্যটকে সরগরম হয়েছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে রোববার পর্যন্ত ছিল সকল পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড়। প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে এখানে। আর আর রোববারও তেমনি পর্যটকদের আগমন ঘটে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। এতে করে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব থেকে চাঙা হচ্ছে সিলেটের পর্যটন অর্থনীতির।

গত বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রোববার সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর, জাফলং, রাতারগুল, চা-বাগান, বিছনাকান্দি, লালাখাল, পান্থুমাই, মায়াবী ঝরনাসহ পর্যটন স্পট সমূহে যে দিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। সিলেটের প্রায় প্রতিটি হোটেল-মোটেলের সব রুম বুকিং হয়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন এলাকার মাঝি, ব্যবসায়ী, ফটোগ্রাফারসহ সংশ্লিষ্টরা। কয়েকমাসের খরা কাটিয়ে পর্যটকেরা ফেরায় হাঁসি ফুঁটেছে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মুখে। আর পর্যটকরাও স্বাচ্ছন্দ্য ঘুরছেন সিলেটে। আর পর্যটকদের আগমন ঘিরে সবগুলো স্পটে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরে ২ ঈদ ও পূজায় পর্যটনখাতের মানুষগুলো বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বসে থাকে। কিন্তু গত ঈদুল ফিতরে কিছুটা ব্যবসা হলেও ঈদুল আযহার সময় সিলেটে দফায় দফায় বন্যা হওয়ায় তা ভেস্তে যায়। এতে করে সিলেটে পর্যটন খাতে স্থবিরতা নেমে আসে। তবে এখন শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের আগমন ঘটায় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আবারো তাদের ব্যবসা জমজমাট হওয়ার।

সাদা পাথরের হোটেল আল বেলার মালিক লিটন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন পরে সাদা পাথরে ফের পর্যটকে মুখরিত হয়েছে। আন্দোলন আর গণঅভ্যুথান শেষে এই ৪ দিনে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে। প্রতিদিন প্রায় ১০/১৫ হাজারের মতো পর্যটকের আগমন ঘটেছে। এতে করে পর্যটন ব্যবসা মোটামুটি চাঙ্গা হয়েছে। বিকিকিনিও ভালো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা জানান, এই ৪ দিনের প্রতিদিন সাদা পাথরে কয়েক হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটাই সবচেয়ে বেশি। পর্যটকরা আসছেন, ভালোভাবে ঘুরছেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো অসুবিধার কথা জানান নি। উপজেলা প্রশাসন থেকে সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, গোয়াইনঘাটে গত ঈদের পর শুক্রবারই বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। জাফলংয়ে প্রায় হাজার ত্রিশেক আর রাতারগুলে প্রায় ৭/৯ হাজারের মতো পর্যটকের আগমন ঘটেছে প্রতিদিন। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও বেশ কয়েক হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। শনিবার শুধু একজন পর্যটক পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া আর কোনো সমস্যা হয়নি কারো। আমরা সজাগ আছি সবসময়।

দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মুজিবুর রহমান মিন্টু জানান, সিলেটে কয়েক দফা বন্যা আর আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এখন পর্যটন ব্যবসা জমে উঠেছে। পূজার ছুটিতে সিলেটের সকল হোটেল-মোটেলের একটাও খালি নেই, শতভাগ পূর্ণ। পর্যটকরা এসে সিলেটের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সিলেটের সকল পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেই রয়েছে নানা সমস্যা। এগুলোর যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে এখানে পর্যটকরা আসতে আগ্রহ হারাবে। পর্যটকদের ধরে রাখতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর সিলেটের বেশিরভাগ পর্যটকই শাহজালাল (র.) মাজারে আসেন। কিছুদিন পূর্বে মাজার নিয়ে হওয়া নানা ঘটনায় পর্যটকেরা আগ্রহ হারাচ্ছেন এখানে আসতে। এভাবে যদি এগুলোর প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া না হয়, পর্যটন নগরীর খেতাব হারাবে সিলেট।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ বলেন, টানা ছুটিতে প্রতিদিন সিলেটে প্রায় লক্ষাধিকেরও বেশি পর্যটকের ঢল নেমেছে। পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্য সিলেটের সকল পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরেছেন। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আমরা পাই নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।