সিলেটের সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রে এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানার বরাবর এই অভিযোগটি দেন সাদাপাথর পর্যটনের ব্যবসায়ীরা। এর আগে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গত রোববার কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
ওই আওয়ামীলীগ নেতা হচ্ছেন আলমগীর হোসেন। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও ভোলাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে সাদাপাথর পর্যটন এলাকার সরকারি খাস জমি থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোলাগঞ্জ গ্রামের আলমগীর হোসেন ও তার দলবল চাঁদাবাজি করে আসছে। গত ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত প্রায় ৪ বছর থেকে সে পর্যটনের ব্যবসায়ীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিটি দোকান থেকে চাঁদা আদায় করেছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী সময়ে সরকারি খাস জমিতে আর চাঁদা দেবে না বলে প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজ আলমগীর তার সঙ্গীয় দলবল নিয়ে পর্যটনের ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে। চাঁদা না দেওয়ায় গত শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাদাপাথর পর্যটন এলাকার বন্ধু কসমেটিক্স শপের ব্যবসায়ী ও সাদাপাথর ব্যবসায়ী সমিতির দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খোকনের উপর হামলা করে আলমগীর ও তার দলবল। এসময় আশরাফুল ইসলাম খোকন আহত হয় এবং তার মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।
এ ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগেও আলমগীর হোসেনকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সে তার দলবল নিয়ে পর্যটন এলাকার দোকানপাট ভাংচুর করে। দীর্ঘদিন থেকে তার এই চাঁদাবাজীতে পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ।
ব্যবসায়ীরা জানান, আলমগীর হোসেনকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সে যে কারো উপর হামলা চালায়। দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামিলীগের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাস জমিতে নির্মিত পর্যটনের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছে আলমগীর হোসেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধর ও দোকানপাট ভাংচুর করে সে। এ বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। এদিকে থানায় দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম খোকনকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। তখন তার দোকানের ক্রয়-বিক্রয়ের টাকা ছিনিয়ে নেয় সে।
সাদাপাথর পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সফাত উল্লাহ বলেন, আমাদের পর্যটনের ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়টি ইউএনও’র কাছে লিখিত ভাবে বলেছি। তাছাড়া চাঁদাবাজি বন্ধের জন্যও আমরা সবাই দাবি জানিয়েছি। ইউএনও ও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন কেউ চাঁদাবাজি করতে আসলে তাকে বেঁধে রাখবেন। এবিষয়ে আলমগীর হোসেনকে ফোন দিলে অন্য আরেকজনে ধরে বলেন তিনি সেখানে নেই। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। আমরা অভিযান চালাচ্ছি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা জানান, পর্যটনের দোকানপাট সরকারি জায়গায়। এখান থেকে কেউ চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি তারা যাতে কাউকে চাঁদা না দেয়।
