কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় ও আন্ত:ক্যাডার বৈষম্য নিরসনসহ ৬ দফা দাবী জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। মঙ্গলবার দুপুরে সমিতির সিলেট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি সিলেট জেলার সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদের সভাপতিত্বে সম্পাদক তৌফিক এজদানী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষা ক্যাডার সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও শিক্ষা ক্যাডারকে বিশেষায়িত পেশা হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। বঞ্চনা আর বৈষম্যের মাধ্যমে এ পেশার কার্যক্রমকে সংকুচিত করা হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের তফসিলভুক্ত প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা স্তরের সকল দপ্তরের নবম গ্রেডের সকল পদে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বাদে অন্য কারও পদায়নের সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫১২ টি পদ শিক্ষা ক্যাডারের তফসিল বহির্ভুত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ হাজার কর্মকর্তার কোনো কারণ ছাড়াই পদোন্নতি বন্ধ আছে দুই বছর। এই মূহুর্তে শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি। এর মধ্যে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি যোগ্য ১২০০ জন। সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি যোগ্য ৩০০০ জন, সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি যোগ্য কর্মকর্তা আছেন প্রায় ৩০০০ জন। এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সরকারের কোনো অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন নেই। সবাই পদোন্নতিযোগ্য পদের বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছেন। ক্যাডার সার্ভিসে শূন্য পদ না থাকলে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না এমন কোনো বিধান নেই।
তিনি আরও বলেন, পুর্বের তুলনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে , সিলেবাস/ কোর্স বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু সে তুলনায় পদ সৃজন হয়নি। বর্তমান শিক্ষা ক্যাডার নিয়ন্ত্রিত সরকারি কলেজসমূহে প্রায় ৫০ লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের পদ সৃজন অপরিহার্য। অথচ বর্তমান সরকারি কলেজসহ শিক্ষা প্রশাসনে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র ১৬ হাজার। শিক্ষার মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে ১২৪৪৪ টি পদ সৃজনের প্রস্তাব আটকে আছে দীর্ঘ ৯ বছর।
শিক্ষা ক্যাডারের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ৪র্থ প্রেডের উপর কোনো পদ নেই। শিক্ষা ক্যাডারে সর্বোচ্চ পদ অধ্যাপক পদটি চতুর্থ গ্রেড হওয়ায় শিক্ষা ক্যাডারের পঞ্চম গ্রেড হতে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ নেই।
২০১৫ সালে নতুন পে-স্কেলে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাডার হচ্ছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ তে অধ্যাপকদের ৩য় গ্রেডে (সিলেকশন গ্রেড) উন্নীত হওয়ার সুযোগ রহিত হয়ে ৪র্থ গ্রেডে অবনমন ঘটে।
শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদমর্যাদাসম্পন্ন পদসমূহের মধ্যে ৪২৯টি পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে মাত্র ৯৮ টি পদ ৩য় গ্রেডে উন্নীত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়।
শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা পূর্ণ গড় বেতনে অর্জিত ছুটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্রীষ্ম ও শীতকালীন অবকাশ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ছুটি ভোগ করলেও শিক্ষকগণ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, উচ্চ মাধ্যমিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষাসমূহ, ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, ফরম ফিল-আপ এসব কারণে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মো. রিয়াজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমীন ইসলাম চৌধুরী, এমসি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সাইফুদ্দীন আহমেদ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোসাম্মৎ রোকসানা বেগম, প্রফেসর আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রফেসর মোছাঃ তাহমিনা আক্তার প্রমুখ।
৬ দফা দাবি আদায়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২ অক্টোবর সারা দেশে একদিনের কর্মবিরতি পালন করা হবে। ন্যায্য দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পালন করা হবে বলেও জানান তিনি।
