শনিবার , ৭ অক্টোবর ২০২৩, ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:০২

সিলেট নগরীতে টানাবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা : চরম ভোগান্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
অক্টোবর ৭, ২০২৩ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তিনদিনের টানা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বেশিরভাগ এলাকা। কোথাও হাঁটু সমান পানি আবার কোথাও কোমর সমান পানি। বিপনি বিতান থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে পানি। এর ফলে শনিবার ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত নিজের বাসাবাড়িতে পানিবন্দি হয়ে কাটাতে হয় নগরের বাসিন্দাদের। এতে করে প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কাজলশাহ, শাহজালাল উপশহর, কালীঘাট, বাগবাড়ি, পীরমহল্লা, খাসদবীর, বাদামবাগিচা, লাক্কাতুড়া, কানিশাইল, লামাপাড়া, লালা দিঘিরপাড়, মাছুদিঘিরপাড়, শাহপরাণ, কুয়ারপাড় উপশহর, সোবহানীঘাট, যতরপুর, শিবগঞ্জ, মাছিমপুর, কামালগড় ও দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুরসহ সিলেট নগরের অর্ধেকেরও বেশি এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় মুহূর্তেই এই এলাকাগুলো ডুবে গেছে বৃষ্টির পানিতে।

সিলেট বিভাগের কোটি মানুষের ভরসাস্থল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এই হাসপাতালের চত্ত্বরে জমে যায় হাঁটুর উপরে পানি। একই অবস্থা হাসপতালের সামনের সড়কেও। এতে করে হাসপতালে আসা রোগী ও তার স্বজনরা পড়ছেন মারাত্বক সমস্যায়। ওষুধ কেনার জন্য ফার্মেসিতে যেতে পারতেছেন না। যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যায় হাবুডুবু খেতে হচ্ছে তাদের। এমনকি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনের চত্ত্বরেও হাঁটুর উপর ও প্রশাসনিক ব্লকে পানি ছিলো শনিবার সকালে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসগুলোতেও পানি প্রবেশ করেছে। ডা. মিলন ইর্ন্টান হোস্টেলের নীচতলায় থাকেন ইর্ন্টান চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মোস্তাকিম শাফি। তিনি জানান, ‘ভোর ৫টার দিকে রুমে পানি ঢুকে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা। আমাদের ছাত্রাবাস গুলোর নিচ তলায়ও।’

খাসদবীর এলাকার বাসিন্দা শামীম আহমদ বলেন, ‘গতরাত থেকে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, থামানোর আর কোনো উপায়ই নেই। এরই মধ্যে রাস্তা ডুবে গেছে। বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যেতে পারি নি ১১ টার আগে।‌‌‌‍’

সিলেট নগরের সবচেয়ে অভিজাত একটি এলাকা শাহজালাল উপশহর। ঐ এলাকার বাসিন্দা ব্যাংকার মোস্তাফিজ রোমান বলেন, ‘শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে উপশহর এলাকা তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে উপশহরের সি ও ডি ব্লক এবং তেররতন এলাকা এখন অল্পবৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। ভোর ৪টা থেকে এই এলাকার প্রায় প্রত্যেকটি বাসাতেই পানি ঢুকে গেছে। নিচতলায় যারা আছেন, তাদেরতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। ১১টার দিকে বৃষ্টি কমলে পানি নামতে শুরু করে। কিন্তু, এখন পানি নামার পরে মানুষকে আরো বড় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিচতলার সবকিছু পানিতে ভিজে যাওয়ায় এখন এগুলো শুকানোর মতো আর উপায় নেই। রোদের ও দেখা মিলছে না। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, ‘সিলেটে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার ৬টা পর্যন্ত ৩৫৭.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই অবস্থা আগামী আরও ২দিন থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এসময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ‘

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, কিচ্ছু করার নাই। ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাবে। ড্রেন নালা পরিষ্কার রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। এছাড়া সুরমা নদী খনন করানো জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।