সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর দরগাহে ওরস উপলক্ষে লৌকিক উৎসব ‘লাকড়ি তোড়া’ (কাঠ ভেঙে সংগ্রহ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) এই উৎসবে অংশ নেন হাজারো ভক্ত। প্রতিবছর দরগাহের বার্ষিক ওরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি সংগ্রহের এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
জুমার নামাজের পর দরগা প্রাঙ্গণে বেজে ওঠে ‘নাকাড়া’-এক বিশেষ ধ্বনি, যা শতাব্দী পুরনো এক আধ্যাত্মিক ডাকে রূপ নিয়েছে। সেই মুহূর্তেই সমস্বরে উচ্চারিত হয়, “শাহজালাল বাবা কি জয়!” সেই ধ্বনির সঙ্গেই হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান দরগাহ প্রাঙ্গন থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের একটি টিলার জঙ্গল থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। সেখানে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের পর লাকড়ি নিয়ে পুনরায় দরগাহ শরীফে ফিরে আসেন।
জনশ্রুতি আছে, শাহজালাল (রহ.) এর জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সেই ঐতিহ্য রক্ষা করে সাত শতাধিক বছর ধরে উরসের তিন সপ্তাহ আগে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সংগৃহীত এই লাকড়ি মাজারে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে রাখা হয়েছে। এসব লাকড়ি দিয়েই উরসে শিরনি রান্না করা হবে।
শাহজালাল (র.) দরগাহ মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ জানান, আজকে সিলেট বিজয় দিবস। ৭০৩ হিজরীর ২৬ শাওয়ালের এইদনে শাহজালাল (র.) সিলেটে আসছিলেন। সেজন্য এইদিনে লাকড়ি তোলা উৎসব পালন করা হয়।
জানা যায়, প্রায় ৭০০ বছর আগে ঠিক ২৬ শাওয়াল দিনেই হযরত শাহজালাল (রহ.) তাঁর ৩৬০ আউলিয়াসহ সিলেটে পদার্পণ করেন এবং হিন্দু শাসক গৌড় গোবিন্দকে পরাজিত করে ইসলামের বিজয় ঘটান। সেই দিনটির স্মরণেই এই লাকড়ি তোড়া উৎসব শুরু হয় এবং আজও তা জীবন্ত ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
