সিলেটে ইউপি চেয়ারম্যান সহ দু’জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এনিয়ে মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন ছবি আপলোড দিয়ে তাদের স্মরণ করছেন, বিভিন্ন স্মৃতি শেয়ার করছেন। সিলেট-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে ইউপি চেয়ারম্যান সহ ২ বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের গোয়াইনঘাটের বহরের ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. ওবায়দুল্লাহ ইসহাক সিলেট সদর উপজেলার ১নং জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের নবগঠিত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং অপরজন সিলেট স্টেডিয়াম মার্কেটের ব্যবয়াসী ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম হাফিজুর রশীদ। তারা দুজনেই বন্ধু ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মো. ওবায়দুল্লাহ ইসহাক ও এম হাফিজুর রশীদ একই মোটরসাইকেলে করে কোম্পানীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সালুটিকর মিত্রিমহল এলাকায় পৌঁছালে সেখানে দাঁড়ানো একটি ট্রাকের পেছনে তাদের মোটরসাইকেলটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। খবর পেয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ট্রাকটি কোন কারণে দাঁড়ানো ছিল সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, তাদের মৃত্যুর খবর পুরো সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুজনেই দুইদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ছিলেন সর্বজন প্রিয়। সবার সাথে তাদের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকলে পোস্ট করছেন।
নিহত মো. ওবায়দুল্লাহ ইসহাক প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণ রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ইমাদ ফেসবুকে লিখেন, আমার অন্তর কাঁপছে, জীবনের অনেক প্রশ্নের হিসাব মিলতেছে না? ভালো মানুষগুলো কেনো অকালেই চলে যায়? সবচেয়ে বেশি মনে হচ্ছে তার মুখের সুন্দর ভাষা, সুন্দর আগামীর পরিকল্পনা। আমি জানতামওনা এই ছবিটিই হবে তার সাথে আমার শেষ ছবি। মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় ভাই কে জান্নাত বাসী করুন আমীন।
নিহত এম হাফিজুর রশীদের প্রসঙ্গে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন লিখেন, হাফিজ একই মায়ের গর্ভে না হলেও আপন ছোট ভাইয়ের যে দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করতো, এ স্মৃতি কখনো ভুলার নয়। তার চালচলন, ব্যবহার ছিল মনে রাখার মতো। আল্লাহ্ পাক মায়ার ভাইদের জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
