সিলেটের পাথরের বিছানাখ্যাত বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট থেকে অবেধভাবে বালু, পাথর উত্তোলন করে পর্যটন স্পটের পরিবেশ নষ্ট করায় পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জনসচেতনতামূলক ফেসবুকে পোস্ট করায় এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় ৩ জনের নামোল্লেখ করে এই অভিযোগ দায়ের করেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে ও ঢাকা ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসাইন (২৩)।
অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মন্নানের ছেলে সাইফুল (৪৫), আজিজুলের ছেলে বিল্লাল (৩০), মুজিব (৩২) সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন।
অভিযোগে আল আমিন উল্লেখ করেন, বিবাদীগণ উচ্ছৃঙ্খল, চাঁদাবাজ, লাঠিয়াল ও সন্ত্রাস প্রকৃতির লোক। প্রায় সময়ই বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট থেকে অবৈধ জনবল নিয়ে অবৈধভাবে পাথর, বালু জোরপূর্বক নিয়ে যায়। আমরা নিরীহ ও আইনমান্যকারী লোক হিসাবে নীরবে সহ্য করিয়া থাকি। বিবাদীগণ গত ২/৩দিন যাবৎ অবৈধভাবে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট থেকে বালু, পাথর উত্তোলন করে পর্যটন স্পটের পরিবেশ নষ্ট করিতে থাকিলে আমি পর্যটন স্পটের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জনসচেতনতামূলক ফেসবুকে একটি পোস্ট করিলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাইফুলের নেতৃত্বে অপরাপর ও অজ্ঞাতনামা বিবাদীগণ দা, লাঠি, লোহার রড, ইত্যাদি অবৈধ অস্ত্রসস্থ নিয়ে বর্ণিত ঘটনাস্থল আমার বসতঘরে প্রবেশ করিয়া আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করিয়া ও তাহাদের সাথে থাকা অবৈধ অস্ত্রসস্ত্র নিয়া মারধরের আক্রমণ করিলে আমার চিৎকারে আশপাশ লোকজন ও বর্ণিত স্বাক্ষীগণ আসিয়া আমার প্রাণ রক্ষা করেন। বিবাদীগণ হুমকি দিয়া বলে যে, আমি আমার ঘর হইতে বাহির হইলে আমাকে প্রাণে হত্যা করিয়া লাশ ফালাইবে । বিবাদীদের এহেন হুমকির দরুন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগিতেছি। এরই জের ধরে বিবাদীরা কুপার বাজারে থাকা আমার বাবার মুদিমালের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করিয়া ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়া যায়। বিষয়টি আশপাশ লোকজন ও স্থানীয় মুরব্বিগণদের অবগত করিয়া থানায় আসিয়া অভিযোগ দিতে বিলম্ব হইল ।
জানা যায়, দিন ও রাতের আঁধারে বিছনাকান্দির পাথর লুটপাটের কারণে সেটার সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। একসময় পর্যটকে মুখর বিছনাকান্দি এখন বিরানভূমি। বালু-পাথরখেকোরা সেটাকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে ফেলছে। ঈদের ছুটিতে বিছনাকান্দি ঘুরতে গিয়ে সেই এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন মঙ্গলবার বিকেল ৩ টা ৩৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন- বাংলাদেশের অন্যতম একটি সৌন্দর্যমূলক পর্যটন জায়গা হল “বিছনাকান্দি ট্যুরিস্ট স্পট”। প্রথম দিকে এর সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করত এখনও করে। যোগাযোগ ব্যবস্থাতে সমস্যা থাকায় পর্যটকের যাতায়াতে কষ্টকর হওয়ায় পর্যটন কিছু কমে গেলেও এখন আশার কথা হচ্ছে রাস্তাঘাট ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে আশা করা যায় খুব শীগ্রই এইটা শেষ হয়ে গেলে এখানে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসবে। এর মাধ্যমে আশেপাশে এলাকার কয়েকশো পরিবার এর কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কিছু মানুষের কারণে মেইন যে স্পট সেখান থেকে সরাসরি ট্রাক্টর নিয়ে ঐখান থেকে পাথর নিয়ে স্পটটা কে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে এই সুন্দর স্পটটাও আর থাকবে না, মানুষও আর আসবে না। শুধু মাত্র কয়েকজন মানুষের স্বল্প সময়ের টাকার জন্য এত সুন্দর প্রাকৃতিক স্পট টা শেষ হয়ে যাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায়না। এটা লিখে তিনি বিছনাকান্দির বালু-পাথর লুটের কিছু ছবি ও ভিডিও প্রমাণস্বরূপ দেন।
এই পোস্টের ৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই তার বাড়িতে পোস্ট ডিলিট করার কথা বলেন অভিযুক্তরা। তখন সে সেটা না কাটলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসেন তারা।
এঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতেই প্রতিবাদ জানায় গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন “পাবলিক ইউনিভার্সিটিজ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ গোয়াইনঘাট (পুসাগ)”। তারা প্রশাসনকে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।
এবিষয়ে আল আমিন হোসাইন জানান, আমি কারো নাম উল্লেখ করি নাই। সেখানে গিয়ে সেখানকার লুটপাটের অবস্থা দেখে আমি ফেসবুকে পোস্ট করি। কিন্তু, পোস্টের কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই তারা আমার বাড়িতে এসে আমার পোস্ট ডিলিট করার কথা বলে এবং ভবিষ্যতে যেন এরকম আর না করি, সেজন্য হুমকি দেয়। আমি পোস্ট ডিলিট করবো না বললে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগায় সকলের পরামর্শে আজ থানায় অভিযোগ দায়ের করি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত কারো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার উপপরির্শক আব্দুর রকিব খান জানান, আজ তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ওসি স্যার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি কাল গিয়ে সেটার বিষয়ে দেখবো। অভিযোগের সত্যতা পেলে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
