শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ২:৫১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নদী গর্ভে বিলীন হলো গোলাপগঞ্জের পাঁচশো বছরের পুরনো মসজিদ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৪ ৫:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের গোলাপগঞ্জে নদী গর্ভে বিলীন হলো পাঁচশো বছরের পুরনো একটি মসজিদ। গত সোমবার যোহরের নামাজের সময় হঠাৎ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন জামে মসজিদ সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বড় গম্বুজ সহ মসজিদের বেশির ভাগ অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। জানা যায়, দীর্ঘদিন দিন থেকে মসজিদটি ভাঙনের কবলে পড়েছিল, অবশেষে অস্তিত্ব হারালো ঐতিহাসিক এই মসজিদটি।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এশিয়ার প্রাচীনতম মসজিদ গুলোর মধ্যে এটি একটি। অনেকের ধারণা মসজিদটির বয়স আনুমানিক চার-পাঁচ শত বছর হতে পারে। তবে কেউ এই মসজিদ স্থাপনের সঠিক সাল বলতে পারেননি। ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদের দেয়াল ও ৩টি গম্বুজের অভিনব সব কারুকাজ চীনামাটির ভাঙা টুকরা দিয়ে বিভিন্ন রঙের নকশা মুসল্লিদের মুগ্ধ করতো।

রুস্তমপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন নামের এক প্রবীণ মুরব্বি জানান, এটি আমার দাদাও তৎকালীন সময়ে পুরাতন মসজিদ হিসেবে জানতেন। মসজিদটির বয়স কোনোভাবেই পাঁচশো বছরের কম হবে না। প্রায় ৩০ বছর থেকে মসজিদটি রক্ষা করার জন্য এলাকাবাসী অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু গ্রামের মানুষের পক্ষে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়নি। এর জন্য গ্রামবাসী নতুন করে আরেকটি জামে মসজিদ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে অনেক আগ থেকেই জুমার নামাজ হয়না। তবে ২/৩ দিন আগেও মসজিদের ভিতরে ওয়াক্তিয়া নামাজ চলমান ছিলো। কিন্তু এটি ভাঙার পর ভিতরে নামাজ পড়া সম্ভব না হলেও মসজিদটির ইমামের কক্ষে বর্তমানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ চলমান রয়েছে। আশপাশের বাড়ির কিছু মুসল্লিরা এখানে নামাজ পড়েন।

সাইম আহমদ নামের গ্রামের এক তরুণ বলেন, ছোটবেলা আমি মসজিদের মক্তবে পড়েছি। এখানে রমজান মাসে সহীহ কুরআন শিক্ষার ক্লাস নেওয়া হতো। তখন থেকেই মসজিদটির ফাটল দেখে আসছি। মসজিদের আঙিনা ও সীমানা প্রাচীর অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অবশেষে সম্প্রতি মসজিদটিও হারিয়ে গেল সুরমার ভাঙনে।

শাহিন আহমদ নামের গ্রামের আরেকজন জানান, মসজিদটি রক্ষা করতে এলাকাবাসী মসজিদের ২০-২৫ লক্ষ টাকার নিজ সম্পত্তি বিক্রি করে নদী ভাঙন রোধে এখানে পাথর ফেলা সহ অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। আমরা এলাকাবাসী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও এই আসনের সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম নাহিদকে অনেক বার এখানে এনে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি আশ্বাস দিয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এভাবেই হারিয়ে গেছে আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি। তার মতে এই এলাকায় নদী ভাঙনের প্রধান কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন।

এই গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়জুর রহমান বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও মসজিদটি রক্ষা করতে পারিনি। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে এখানে এনে অনেকবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও এবিষয়ে তার কোনো আন্তরিকতা দেখিনি। উপজেলা প্রশাসন থেকে মাত্র কিছু বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল কিন্তু এতে কিছুই হয়নি।

এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দাদের দাবি, নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা গেলে এবং সঠিক সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এলাকার এই মসজিদ সহ অনেক ঘরবাড়ি রক্ষা করা যেত। কালের সাক্ষী হয়ে থেকে যেত ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি।

এবিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন জানান, এখানকার ভাঙনটা প্রবল ছিল। যার কারণে আমরা অনেক চেষ্টা করেও এই মসজিদ সহ আরো কিছু বাড়ি গত বন্যায় নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারি নি। আমরা এই মসজিদের খবর পাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় যোগাযোগ করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু, ওইখানে এটা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি নদীর স্রোত বেশি থাকায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।