ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বর্জন ও বয়কটের আহবান জানিয়ে সর্বস্তরের ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণার দাবিতে সিলেটে অবস্থান কর্মসূচী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সিলেট কল্যাণ সংস্থা (সিকস), সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা (সিবিযুকস) এবং সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার (সিপ্রকস) যৌথ আয়োজনে ৩০ মিনিট অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়।
সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের সভাপতিত্বে ও সিকস’র কার্যকরী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. তালেব হোসেন তালেবের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিযুকস’র সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিয়াজী।
বক্তব্য রাখেন- সিলেটি সচেতন নাগরিক সমাজ’র আহবায়ক ও কানাডা প্রবাসী বিশিষ্ট্য কমিউনিটি নেতা মো. আমিনুল ইসলাম ডিনেস, সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রুয়েল আহমদ বক্ত তুষার, সিলেট মহানগর কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিপক কুমার মোদক বিলু, প্রচার সম্পাদক মো. ফুজায়েল আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান, সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি হাজী মো. আশরাফ উদ্দিন, সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমদ, সচেতন নাগরিকদের মধ্য থেকে নাঈমুল চৌধুরী।
অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা সর্বস্তরের ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের কাছে সাধারণ জনগণ জিম্মি। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিকভাবে এখন মানুষে মানুষে বৈষম্যতার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে দুর্নীতি। আর এ দুর্নীতির অক্টোপাসে জড়িয়ে স্বর্গসুখে বিভোর ব্যক্তিরা সৎ অসৎ’য়ের সংজ্ঞাটা ভুলে গেছে। অসততার পথে চাহিদার শেষ নেই বলে কোটি কোটি টাকার অন্তরালে তাদের লোলুপ চাহনি ফুটে উঠে কেবল। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে একের পর এক অন্যায় করে যাচ্ছে কিছু মানুষ। কারণ সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা আছে বলে তারা মনে করে না।
বক্তারা আরও বলেন, ‘রাজা আসে, রাজা যায়’ কিন্তু অসৎ দুর্নীতিবাজ ঘুষখোররা বহাল তবিয়তে থাকে। কারণ তারা মুষ্টিমেয় হলেও তাদের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ ও সরকার। আত্মকেন্দ্রিক ভোগ বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত তাদের পরিবার। আর সৎ পথে ফিরে আসা তাদের জন্য সম্ভব হয়ে উঠে না অন্তহীন চাহিদার জন্য। তাই সরকারি চাকুরীজীবীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করার পরেও ঘুষ ছাড়া টেবিল থেকে ফাইল নড়ে না। ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে নানা ছল চাতুরীতে। দুর্নীতি এখন একটা চেইনের মত কাজ করে বলে এর প্রভাব পড়ছে পরিবারের সন্তানদের উপর। কারণ ভালো থাকার সংজ্ঞাটা করা হয় টাকার পরিমাণ দিয়ে। আর তাই সৎ অসৎয়ের যাপিত জীবন বোধের বৈষম্যতা আগামী প্রজন্মকে কেবল অন্ধকারেই নিমজ্জিত করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। একটি দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে হলে আগামী প্রজন্মের কথা চিন্তা করতে হবে। তাদেরকে সুস্থ জীবনের সাথে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে ভালো মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের নিমূল করনতে হবে। নিমূল করতে প্রয়োজন ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের রাষ্টদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করা। তাই অচিরেই বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, উন্নতি ও আত্মনির্ভশীলতার অন্তরায় সর্বস্তরের ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
