সামাজিক সচেতনতার লক্ষ্যে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকবিহীন ৭ দম্পতির গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল) উপজেলার সাদা পাথর হোটেল এন্ড রিসোর্টে কোম্পানীগঞ্জ এসোসিয়েশন ইউকের আয়োজনে এই গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্য বসবাসরত প্রবাসীদের সংগঠন “কোম্পানীগঞ্জ এসোসিয়েশন ইউকে” উপজেলায় প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে এবার তারা গণবিবাহের আয়োজন করে। যৌতুক বিহীন এই বিয়েতে তারা বর ও কনের পোশাকের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি করে সেলাই মেশিন দিয়েছেন। এছাড়া বর কনের সংসারের প্রয়োজনীয় রান্নার সরঞ্জাম এবং লেপ-তোষক দিয়েছেন তারা। গণবিবাহে বরদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি ও পাগড়ী আর কনেদের পরনে ছিল লাল বেনারসি শাড়ি। অনুষ্ঠানে রীতি অনুযায়ী খাওয়া-ধাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা থেকে শুরু করে সবকিছুই ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই পক্ষের পরিবারের লোকজনসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ এই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গণবিয়ের অনুষ্ঠানে আসা বর-কনেরা জানান, আলাদা করে বিয়ের অনুষ্ঠান করার মতো সামর্থ্য নেই তাদের। গরিব হওয়া সত্ত্বেও ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজনে খুশি তাদের স্বজনেরাও।
এ সময় স্বজনরা বলেন, এমন ধুমধাম করে বিয়ে দিতে পারব তা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন সুন্দর পরিবেশে বিয়ে হওয়ায় খুবই আনন্দ লাগছে। সামাজিক ব্যাধি যৌতুক এর বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
যৌতুক বিহীন গণবিবাহ পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানে কোম্পানীগঞ্জ এসোসিয়েশন ইউকের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তোতিউর রহমান।
তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের আর্ত-সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা মনে রাখার মতো। তারা প্রবাসে দিনরাত খাঁটুনি খেটে টাকাপয়সা রোজগার করে শুধু পরিবারের কথা ভাবেন নি। তারা এই দেশের, সমাজের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন বিধায় বিভিন্নসময়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। কোম্পানীগঞ্জ এসোসিয়েশন ইউকেও উপজেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। আজ তারা এই ৭ টি দম্পতির বিয়ে দিয়ে মহৎ কাজ করেছেন। এই সহযোগিতার কারণে ওই ৭ টি পরিবারের কাউকে আর তাদের বিয়ে নিয়ে টেনশন করতে হবে না। আর কর্মসংস্থানের জন্য সংস্থাটি যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছে। তাদের বিয়ের পাশাপাশি তারা কর্মসংস্থানের সহযোগিতাও পেয়েছেন। আমরা আশা রাখবো উপজেলার সকল প্রবাসী উপজেলার উন্নয়নে কাজ করবেন।
কোম্পানীগঞ্জ এসোসিয়েশন ইউকের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা আছেন বলেই আমাদের অর্থনীতি কখনো সংকটের মুখে পড়ে নি।কোম্পানীগঞ্জ এসোসিয়েশন ইউকে আজ এই ৭ টি গণবিবাহ দিয়ে ৭ টি পরিবারকে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে ভূমিকার চেষ্টা করছেন। আশা রাখি তারা এই ভালো কাজের দ্বারা অব্যাহত রাখবে।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুজিবুর রহমান মিন্টু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম (ঠান্ডা স্যার), উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আলীম, এম সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মুর্শেদ আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ফয়জুর রহমান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল খায়ের, সিলেটস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. কামাল হোসাইন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর আলম, এসোসিয়েশন ইউকের সহ-সভাপতি জহুরুল হক আহাদ, সাদাপাথর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান আলকাছ আলী, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফিজ মাসুম আহমদ, বিএনপি নেতা জুয়েল আহমদ প্রমুখ।
এসময় উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
