লবীব আহমদ
কোনো শিক্ষক ছাড়াই চলছে সিলেটের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ইতিহাস বিভাগ। শিক্ষক সংকট দূর করতে নিযুক্ত করা অতিথি শিক্ষককেই এখন সামাল দিতে হচ্ছে পুরো বিভাগের শিক্ষা-সহ অন্যান্য কার্যক্রম। এমসি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সৃষ্ট ৪ পদের বিপরীতে থাকা ৪ শিক্ষকই পিআরএলএ গমন, পদোন্নতি ও বদলীজনিত কারণে চলে যাওয়ায় পদগুলো শূন্য রয়েছে। সাড়ে ৭০০ শিক্ষকের বিপরীতে এখন এই একজন অতিথি শিক্ষক ব্যতীত আর কেউ নেই ক্লাস নেওয়ার মতো। বিভাগের স্নাতক, মাস্টার্স ও ডিগ্রির ক্লাস নিতে হচ্ছে তাকেই। স্নাতক ১ম বর্ষের আবশ্যিক বিষয় “স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস” বিষয়টি কলেজের সকল বিভাগের প্রায় ৩ সহস্রাধিকেরও বেশি শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় এই ইতিহাস বিভাগে এসে। সেখানে কোনো শিক্ষক ছাড়াই কিভাবে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করবে বলার অপেক্ষাই রাখে না।
এমসি কলেজের ইতিহাস বিভাগ থেকে জানা যায়, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাফিয়া আক্তার চৌধুরী ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেট সরকারি কলেজে বদলী হয়ে চলে গেলে সহকারী অধ্যাপকের সৃষ্ট ২ পদের ১ টি শূন্য হয়৷ শূন্য পদটি পূরণ করতে পরের মাস অক্টোবরে অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় বিভাগে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স সম্পন্ন করা শাওন সরকার দীপ্তকে। পরে চলতি বছরের জুলাইয়ের ২৭ তারিখে উপাধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি পেয়ে হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে চলে যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শওকত হোসেন। এতে করে শূন্য হয়ে যায় সহযোগী অধ্যাপকের সৃষ্ট একমাত্র পদটি৷ পরে ঐ মাসের ৩০ জুলাই বদলী হয়ে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুহেল আহমদ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে চলে গেলে সহকারী অধ্যাপকের পদগুলো শূন্য হয়। আর সবশেষ ৩১ জুলাই ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নূরে ফারহানা বেগম অবসরোত্তর ছুটিতে গমন করলে পুরো বিভাগই শূন্য হয়ে যায়।
ইতিহাস বিভাগের অতিথি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত শাওন সরকার দীপ্ত জানান, বর্তমানে কেউ না থাকায় আমাকে একাই সব ক্লাস নিতে হচ্ছে। একা বিভাগের স্নাতক, মাস্টার্স ও ডিগ্রীর সবগুলো ক্লাস নেওয়া কতটুকু সম্ভব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে আবশ্যিক সাবজেক্টের ক্লাস ও নিতে হয়। আপাতত নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে বিশ্রাম না নিয়ে চেষ্টা করছি শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে৷
এবিষয়ে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মো. রিয়াজ বলেন, আমি বোর্ডে বারবার জানিয়েছি ইতিহাস বিভাগ সম্পর্কে। ঐ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চলে যাওয়ার আগে জানিয়েছিলাম শিক্ষক সংকটের কথা। কিন্তু, এই সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি। সবশেষ গত সপ্তাহে আমি বোর্ডে লিখিত পাঠিয়েছি। কোনো শিক্ষক ছাড়া একজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব না একটি বিভাগের কার্যক্রম চালানো। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব শিগগিরই এর ব্যবস্থা নিবে।
