সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) হিসেবে আজ বুধবার দায়িত্ব নিচ্ছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিশু মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ জিয়াউর রহমান চৌধুরী। কলেজ সূত্র জানিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে প্রায় ১৫ বছর পদ বঞ্চিত ছিলেন এই মেধাবী চিকিৎসক। শুধু দলীয় পরিচয় ভিন্ন থাকায় বিগত সরকার কর্তৃক এই অঘোষিত শাস্তি পেতে হয় তাকে। তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজের বর্তমান প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা: শিশির রঞ্জন চক্রবর্তীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
ডা: জিয়া ১৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। কিন্তু, দীর্ঘদিন তাকে কোন পদোন্নতি দেয়া হয়নি। তার জুনিয়ররা স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেও রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত রাখা হয় তাকে। অবশেষে গতকাল তাকে সিলেট বিভাগের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে পদায়ন করা হয়।
ডা: জিয়া সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আজিজুর রহমান চৌধুরী ও মাতা খালেদা চৌধুরী। তিন সন্তানের জনক ডা: জিয়ার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরী একজন শিক্ষিকা। তার তিন সন্তান ইহরাজ রহমান চৌধুরী, মাহরান চৌধুরী ও ইশবার চৌধুরী।
সহকর্মীরা জানান, অধ্যক্ষ ডা: জিয়া শিক্ষাঙ্গনে রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এরপর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বিএসএমএমইউ হতে শিশু মেডিসিনে ডিসিএইচ ডিপ্লোমা এবং ঢাকা মেডিকেল থেকে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী এম.ডি (শিশু মেডিসিন) অর্জন করেন। তারপর তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ ১৭তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হন। প্রায় ১৫ বছর পূর্বে ওসমানী মেডিকেলের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। প্রায় ১৫ বছর পর সম্প্রতি তিনি সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। গতকাল এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ মেডিকেলের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়।
এদিকে, ডা: ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হওয়ায় কলেজের বিভিন্ন ডিসিপ্লিন ও হাসপাতাল এর শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
