শুক্রবার , ১৭ জুলাই ২০২৬, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফ্রান্সে পালিয়েও রক্ষা হয়নি দণ্ডিত ‘ধর্ষকের’ , ৮ বছরের সাজা ভোগে ফিরিয়ে আনা হলো যুক্তরাজ্যে

সিলেটের সকাল ডেস্ক ::
জুলাই ১৭, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আইনের হাত থেকে বাঁচতে যুক্তরাজ্য ছেড়ে ফ্রান্সে পালিয়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি ব্রিটিশ বাংলাদেশি দণ্ডিত ধর্ষক ফয়সাল আহমেদের (৩৪)। আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আট বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।- খবর বাংলাট্রিবিউন

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধর্ষণ, নিপীড়নমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাজা এড়াতে ফয়সাল আহমেদ ফ্রান্সে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি ভিন্ন একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে চেশায়ার পুলিশ ক্রু এলাকার একটি বাসায় গিয়ে এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়, বাকিংহামের ওয়েস্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ কয়েক মাস ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর শিশু সন্তানকেও মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চেস্টার ক্রাউন কোর্টে নয় দিনের বিচার শেষে জুরি বোর্ড তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সাজা ঘোষণার দিন আদালত থেকে পালিয়ে যান ফয়সাল আহমেদ। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন।

পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে চেশায়ার পুলিশের পাশাপাশি ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, ইন্টারপোল, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এবং ফ্রান্সের প্যারিস জুডিশিয়াল পুলিশ ডিরেক্টরেট যৌথভাবে কাজ করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল ফ্রান্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষে তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারির ফোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিটেকটিভ কনস্টেবল অ্যামি পেগন্যাম বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই একজন বিপজ্জনক অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে তার সাজা কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ফয়সাল আহমেদ মনে করেছিলেন তিনি আইনের হাত থেকে পালিয়ে থাকতে পারবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হয়নি।

মামলার প্রাথমিক তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা সাইমন নোওলস ভুক্তভোগী নারীর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, নিজের ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।