সোমবার , ২১ আগস্ট ২০২৩, ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:০০

ইতালি পাঠানোর নামে ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও গুমের অভিযোগ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:
আগস্ট ২১, ২০২৩ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইতালি পাঠানোর নামে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র কর্তৃক ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও এক ব্যক্তিকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার হোসেনপুর গ্রামের সৈয়দ মশাহিদ আলীর স্ত্রী সানওয়ারা বেগম।
এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার স্বামী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর্থিক ও সামাজিক উন্নতির আশায় তিনি ইউরোপ যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তখন জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের পড়ারগাও গ্রামের শাহীন আহমদের স্ত্রী আমিনা বেগম তালুকদার জানায় তার স্বামী শাহীন আহমদ লিবিয়ায় থাকেন এবং তিনি লিবিয়া হয়ে ইউরোপের দেশ ইটালিতে পাঠাতে পারবে। এ সময় একই গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র রোকন আহমদ, মৃত ইরশাদ আলীর পুত্র তোতা মিয়া ও ছন্দন মিয়া এবং রঙ্গুম উল্লাহর পুত্র হারুণ মিয়া ও ইসহাক আলীর পুত্র শাহজাহান আহমদ তার সাথে ছিলেন এবং তারাও শাহীনের স্ত্রী আমিনার সাথে মিলে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে লোক পাঠান বলে নিশ্চিত করেন।
লিখিত বক্তব্যে সানোয়ারা জানান, আমিনা বেগম তালুকদারসহ তারা সবাই মিলে মশাহিদ আলীকে ইতালি পাঠানোর বিনিময়ে আমাদের কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা গ্রহণের চুক্তি করে। তখন শাহীনের স্ত্রী ও তার সহযোগী রোকন আহমদ, তোতা মিয়া ও ছন্দন মিয়া, শাহজাহান এবং হারুণ মিয়া মিলে রোকন মিয়ার মাধ্যমে মশাহিদ আলীর পাসপোর্ট (বি কিউ ০৪৪৫২৮৬) ও প্রথম দফায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে।
সানোয়ারা অভিযোগ করে বলেন, আমিনা বেগম তালুকদার ও তার সহযোগীরা ২০২০ সালে ২৯ নভেম্বর তার স্বামীকে প্রথমে আরব আমিরাতের দুবাই পাঠায়। দুবাই থেকে লিবিয়ায় নিয়ে পরে আরো ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করে। লিবিয়ায় নেওয়ার পর মানবপাচার চক্র তার স্বামী সৈয়দ মশাহিদ আলীকে জিম্মি করে ও বারবার শারীরিক নির্যাতন করে। মোশাহিদের লাশ সমূদ্রে ফেলে দেওয়ার ও গুম করার ভয় দেখিয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় তাদের কাছ থেকে মোট ২২ লাখ মুক্তিপণ আদায় করে। কিন্তু তাকে মুক্তি না দিয়ে কিংবা ইতালি না পাঠিয়ে মশাহিদ আলীকে গুম করে রাখে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একপর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি লিবিয়ায় জিম্মি থাকাবস্থায় আমিনা বেগম তালুকদারসহ উরফে (আকলিমা) তার সহযোগী রোকন আহমদ, তোতা মিয়া, ছন্দন মিয়া ও হারুণ মিয়ার কথায় আমিনার স্বামী শাহীন ও তার অজ্ঞাত সহযোগীরা অমানবিক নির্যাতন করে তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করে রেখেছে। সানোয়ার অভিযোগ করেন এ বিষয়ে শাহীনের স্ত্রী আমিনা বেগম ও তার সহযোগীদের কাছে মশাহিদ আলীকে জীবিত অথবা মৃত ফেরত চাইলে তারা উল্টো সন্তানাদিসহ তাকে অপহরণ ও খুন গুম করার হুমকি দেয়। সংবাদ সম্মেলনে সানোয়ারা বেগম তার স্বামী সৈয়দ মশাহিদ আলীকে উদ্ধার ও আত্মসাৎকৃত ২২ লাখ টাকা ফেরত পেতে এবং আমিনা বেগম তালুকদার উরফে (আকলিমা) ও তার সহযোগী মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।