সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ নির্মাণ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় আটক ট্রাক চালক শফিকুল ইসলাম (২৭)-কে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (তদন্ত) আবুল হোসেন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ট্রাক চালক শফিকুল ইসলামকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই ট্রাক চালক আহত বিধায় পুলিশ সতর্কতার সাথে আদালতের কাছে তার রিমান্ড চাইবে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় র্যাব-৯ এর একটি বিশেষ দল পটুয়াখালী সদরে অভিযান চালিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত শফিকুল মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা আলুভর্তি ট্রাকের চালক। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার নয়াপাড়া মোকসেদপুর গ্রামের মো. মিস্টার মিয়ার পুত্র। র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সিনিয়র এএসপি আফসান আল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম নিজেও ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। তার পায়ের তলা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গাড়ির কাচে কেটে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঘটনার দিন বিকেলে এনা পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকায় চলে যান। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নিজের বাড়ি শেরপুরে না গিয়ে শ্বশুরবাড়ি পালিয়ে যান।
র্যাব আরো জানায়, বহুল আলোচিত ওই সড়ক দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহত নির্মাণ শ্রমিক সায়েদ নূরের ছেলে ইজাজুল বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় অজ্ঞাত পরিচয় দুই চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ৎউল্লেখ্য, গত বুধবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সরমার নাজির বাজারের কুতুবপুরে ট্রাক-পিকআপের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু হয়। পরে ঐদিনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৩ জনের মৃত্যু ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু ঘটে। সবমিলিয়ে মৃত্য হয় ১৫ জনের। আহত হন আরো ১৩ জন।
