‘বড় দুই ভাইরে হারাইয়া এখন কিতা করবো আমার নাতিয়ে। দুলালে বিয়া করার ১ মাস হইলো না, তার বউর হাতর মেন্দিও মিটছে না এর মাঝেই আমার নাতিটা মারা গেল। এখন বাপহারা আব্বাসে একলা কিতা করবো? বড়ভাইর ফুয়া-বউরে দেখবো না হুরুভাইর বউ আর মা রে দেখতো?’
কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার নাজির বাজার এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহত দুলাল মিয়ার (২৬) দাদা নুর মোহাম্মদ (৬০)। তার মতো এরকম অসংখ্য মানুষের আহাজারিতে এখন ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল ভারী হয়ে উঠেছে।
বুধবার (৭ জুন) সকালে নাজির বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় দুলাল মিয়াসহ আরও ১৪ জন।
দুলাল মিয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাগ ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে।
দাদা নুর মোহাম্মদ জানান, গত অক্টোবরে দুলাল মিয়ার বড়ভাই হেলাল মিয়া (৩২) বালুবাহী নৌকা নিয়ে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে মারা যান। দুলালের রোজগারে পরিবারের দিনাতিপাত চলতো। বউ ও আড়াই বছরের ছেলে সন্তান রেখে মারা যান হেলাল মিয়া। তার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে না উঠতেই এখন মারা গেল দুলাল মিয়া। গত ঈদুল ফিতরের পরে নতুন বিয়ে করেন দুলাল মিয়া। বিয়ের এক মাস না পেরুতেই বুধবার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। একা দুই ভাইয়ের শোক কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন তাদের একমাত্র ছোট ভাই আব্বাস মিয়া (১৯)।
ওসমানী মেডিকেলে ভাইয়ের লাশ নিতে আসা আব্বাস মিয়া ঠিকমতো কথাই বলতে পারছিলেন না। চোখের জলে ও তার আর্তচিৎকারে ওসমানীর বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকার কুতুবপুর নামক স্থানে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
