সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থীদের বিরত রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নিজে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরত রাখার চেষ্টায় রয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত বিএনপি সমর্থিত চারজন কাউন্সিলর প্রার্থী দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহণকারী অনেকেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানান তিনি।
গত শনিবার নাগরিক সমাবেশে সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী না হবার ঘোষণা দেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া, বিএনপি নেতা ও ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ২২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আমির হোসেন এবং ১৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী দিনার খান হাসু নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। কয়েস লোদী ছাড়া বাকি তিন কাউন্সিলরের নির্বাচন না করার মতবিনিময়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী সিসিকের এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনে’র নির্বাচন উল্লেখ করে বলেন, এই মুহূর্তে সিলেট তথা সারাদেশেই নির্বাচনী কোন পরিবেশ নেই। আপত্তি সত্তে¡ও সিলেটে ইভিএমে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে। অথচ সিলেটের মানুষ ইভিএমের সাথে একেবারেই অপরিচিত। এখানে ইভিএম নিয়ে আসাই ‘ভোট ডাকাতি’র ইঙ্গিত। বর্তমান নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ভোট চায় না। তারা ‘ডিজিটাল ভোট ডাকাতি’ চায়। তিনি নগরবাসীকে ভোট বর্জনের আহবান জানিয়ে নিজেও প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেন।
