সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম মাওলানা মুফতি মো: মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ি)-র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানাজার পূর্বে আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়াউদ্দিন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, দরগাহ মাদ্রাসার মজলিসে আমেলার সদস্য মুফতি হাসান, জামেয়ার ভারপ্রাপ্ত নাজিমে তালিমাত মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, পরিবারের পক্ষে মরহুমের সহোদর আতিকুল হক ও মরহুমের ছোট ছেলে লন্ডন প্রবাসী হাফিজ জাহিদসহ শতাধিক বক্তা বক্তব্য রাখেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টা থেকে তার লাশ শাহী ঈদগাহে আনা হয়। এখানে লোকজন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শেষ বারের মতো তার লাশ দেখেন। এক পর্যায়ে পুরো শাহী ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শাহী ঈদগাহে স্থান সংকুলান না হওয়ায় লোকজন ঈদগাহের দুই পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করেন। জানাজায় অংশ নেয়া নগরীর হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জানাজায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এ কারণে শাহী ঈদগাহ, কাজিটুলা ও কুমারপাড়া ঝরণারপার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে আলেম-উলামা ও তাঁর ভক্তরা বিভিন্ন ধরণের যানবাহন ভাড়া করে শাহী ঈদগাহে আসেন আল্লামা গাছবাড়ির জানাজায় অংশ নিতে। জানাজাশেষে শাহী ঈদগাহ মাঠ খালি হতে লেগে যায় দীর্ঘ সময়।
জানাযার নামাজে ইমামতি করবেন তাঁর বড় ছেলে, দরগাহ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক জুনাইদ। জানাযা শেষে হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ কবরস্থানে জামেয়ার অপর মুহতমিম মাওলানা আবুল কালাম জাকারিয়ার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
দরগাহ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অজুশেষে মাগরিবের নামাজের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রæত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
