সিলেটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নর্থ ইস্ট ইউিনিভার্সিটি বাংলাদেশ (NEUB) ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার গুণগত মান ও পেশাগত সাফল্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের গুণগত, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদান এবং তাঁদের পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর আইন ও বিচার বিভাগ তার কার্যক্রম শুরু করে ২০১২ সালে। শুরু থেকেই বিভাগটি সিলেটের আইন ও বিচার অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতাসহ দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।
কারিকুলাম:
নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগ ২০২৩ সাল থেকে OBE (Outcome-Based Education) কারিকুলাম চালু করেছে, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করছে।
আইনের ভবিষ্যৎ:
আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার অন্যতম সুবিধা হলো বিসিএসসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া। অন্যদিকে, অন্যান্য কোন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে বিজেএস পরীক্ষার মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিচারক হওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে সিলেটসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা যাঁরা ভবিষ্যতে বিচারক কিংবা আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাঁদের প্রথম পছন্দ নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগ।
যা পড়ানো হয়:
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাক্রম ও সুযোগ-সুবিধা যা যা আছে- আইন ও বিচার বিভাগে জুরিসপ্রুডেন্স, সাংবিধানিক আইন, মুসলিম আইন, হিন্দু আইন, চুক্তি আইন, টর্ট আইন, ভূমি আইন, প্রশাসনিক আইন, কোম্পানি আইন, সাইবার আইন, শ্রম আইন, অপরাধ আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, মানবাধিকার আইন, আন্তর্জাতিক আইনসহ বিভিন্ন আইনের বিষয় পড়ানো হয়।
শিক্ষার্থীদের সংগঠন গুলো:- পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য রয়েছে এনইইউবি ল এন্ড স্টুডেন্টস ফোরাম এবং এনইইউবি ল এন্ড মুট কোর্ট ক্লাব।এসব ক্লাব আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষকদের তত্বাবধানে সরাসরি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে।এছাড়াও ক্লাব দুটি বিভিন্ন সহশিক্ষা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে যেমন বিতর্ক চর্চা,মুট কোর্ট প্রাকটিস,ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টস।
নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়েজ ইবনে আজাদ বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বিচারক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাই নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগের সুনাম শুনে এখানে ভর্তি হয়েছি। পড়াশোনার পরিবেশ ও শিক্ষকদের সহযোগিতা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।”
স্নাতক পর্যায়ের আরেক শিক্ষার্থী সায়েদা নাহিদা বেগম বলেন, “আইন শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। এখানে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে পড়ার সুযোগ পাচ্ছি, যা আমাদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে।”
অন্যদিকে আইন ও বিচার বিভাগের প্রভাষক ও কোর্স এডভাইজার মোঃ মাহামুদুন নবী রুপক আইন ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন “আইন শুধু একটি বিষয় নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার। আমাদের বিভাগ শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ আইনজ্ঞদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এছাড়া নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক তাসনুভা জাহান বলেন, “আমাদের বিভাগ শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদানের জায়গা নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার কেন্দ্র।”
সিলেট তথা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা আইন ও বিচার বিভাগ হিসেবে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।পাশাপাশি পেশাগত সাফল্যের সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার স্বপ্ন যাঁরা দেখছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
