সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায় এর ম্যুরাল স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টায় এমসি কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের অর্থায়নে রাজা গিরিশচন্দ্র রায়ের ম্যুরাল নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন মুরারিচাঁদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মো: রিয়াজ।
এ সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সাইফুদ্দীন আহম্মদ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, কর্মচারীবৃন্দ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের সুধীবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ম্যুরালের উদ্বোধন শেষে কলেজের শিক্ষাবিদ সম্মেলন কক্ষে এইচএসসি ‘৯১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে উপস্থিত বক্তারা তাদের বক্তব্যে ম্যুরাল স্থাপন কাজটা যেন নির্বিঘ্নে সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয় এবং কলেজের সার্বিক পরিস্থিতিরও যেন উন্নয়ন হয় সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এইচএসসি ‘৯১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অত্র কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর রায় তার বক্তব্যে ম্যুরাল নির্মাণ কাজের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে বর্তমান ও প্রাক্তন মুরারিয়ানদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
কলেজ কর্তৃক ম্যুরাল স্থাপন বিষয়ক কমিটির আহবায়ক দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ আজাদ আতিকুর রহমান ম্যুরাল নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধনে উপস্থিত থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মো. রিয়াজ তাঁর বক্তব্যে ম্যুরাল নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। শতবছরের ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতার ম্যুরাল নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে পেরে তার ভালোলাগার বিষয়টি সবার সাথে শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সেই স্বপ্নীল বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে বুদ্ধি, পরামর্শ দিয়ে মুরারিচাঁদ কলেজের সাথে সম্পৃক্ত থাকার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ আবুল আনাম মোঃ রিয়াজ এর আহবানে ম্যুরাল নির্মাণ কাজের অগ্রপথিক, সিলেটের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পুরোধা ব্যক্তিত্ব প্রয়াত মিশফাক আহমেদ মিশুর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৩২ বছরের পুরনো ও সিলেট তথা আসামের প্রথম এবং বাংলাদেশের ৭ম ঐতিহ্যবাহী কলেজ মুরারিচাঁদ সরকারি কলেজ ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যা এমসি কলেজ নামে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং এই কলেজের অগনিত শিক্ষার্থী বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে বিভিন্ন পেশা ও কর্মে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন সিলেট রায়নগরের রাজা গিরিশ চন্দ্র রায় (১৮৪৫-১৯০৮)। তিনি সিলেটের প্রথম রায়বাহাদুর ও একমাত্র রাজা খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি। শিক্ষাবিস্তারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৫ সালে তাঁকে রায়বাহাদুর এবং ১৮৯৯ সালে রাজা উপাধিতে ভূষিত করেন। রাজা গিরিশ চন্দ্র রায়ের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ স্থাপনা কাজের অনুমতি দেন। এই ম্যুরাল স্থাপনার কাজটি সম্পূর্ণভাবে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কলেজের যৌথ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুরারিচাঁদ সরকারি কলেজ, সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশ চন্দ্র রায়-এর ম্যুরাল স্থাপনা কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয় শনিবার।
