মঙ্গলবার , ৪ এপ্রিল ২০২৩, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪০

বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ড : হাজারো স্বপ্ন পুড়ে ছাই

ডেস্ক রিপোর্ট
এপ্রিল ৪, ২০২৩ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

হাজারো স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বঙ্গবাজারে! লাখ লাখ টাকার পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা তারা। পুরো বঙ্গবাজার এলাকা এখন ব্যবসায়ীদের চাপা কান্নায় গুমোট হয়ে আছে। আশেপাশে রাখা দু-চারটা কাপড়ের গাঁটের ওপর হেলান দিয়ে হতাশ হয়ে বসে আছেন কেউ। কারও চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়ছে জল। কথা বলার শক্তিও যেন তাদের নেই!

বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে শাড়ি-কাপড়ের ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম বাবুল। হামদান শাড়ি বিতানের মালিক তিনি। বিগত ২৩ বছর যাবত এ মার্কেটে ব্যবসা করে আসছেন। হামদান শাড়ি বিতান নামে ব্যবসা শুরু করেছেন বছর চারেক আগে। পুড়ে যাওয়া মার্কেটের অদূরে সড়কের আইল্যান্ডে কয়েকটা কাপড়ের গাঁটের পাশে দাঁড়ানো তিনি। অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে আছেন। জানতে চাইলে ফ্যাল ফ্যাল করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল তার দোকানে। ঈদ বাজারের কারণে ঋণ করে দোকানে অতিরিক্ত মালামাল তুলেছিলেন। এখন আর কিছুই নাই। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মার্কেটের অস্তিত্বই এখন আর নাই। বঙ্গমার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ছিল তার দোকান। বিক্রমপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী বাবুল বলেন, সব স্বপ্ন এখন ওই ছাইয়ের নিচে। আর কিছুই বলতে পারলেন না তিনি।মল্লিকা গার্মেন্টসের মালিক নূর আলম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের পাশের সড়কের ফুটপাতে কিছু কাপড়ের গাঁটের সঙ্গে হেলান দিয়ে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকেন মল্লিকা গার্মেন্টসের মালিক নূর আলম। সব হারিয়ে দিশেহারা। বলছিলেন, দোকানের ক্যাশ বাক্সেই ছিল আট লাখ টাকা। মহাজনের টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে টাকাগুলো রেখেছিলেন দোকানে। সঙ্গে ৩০ লাখ টাকারও বেশি মালামাল ছিল। কিছুই আর বাকি নাই। সব যেন চোখের পলকে নাই হয়ে গেলো।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) ভোর ৬টায় আগুন লাগার পর থেকে বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের ভিড় বাড়তে থাকে বঙ্গবাজার এলাকায়। একদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল পর্যন্ত। অন্যদিকে পুলিশ সদর দফতর হয়ে পাশের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন পর্যন্ত। পুরো সড়কেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, সেনাবাহিনী, রেডক্রিসেন্ট, ওয়াসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে ছিল অবরুদ্ধ। এছাড়া উৎসুক জনতার বিড়ম্বনায় হিমশিম খাচ্ছিলেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতরা।

ব্যবসায়ী আরিফ জানান, বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে পাশাপাশি মার্কেট রয়েছে পাঁচটি। এরমধ্যে আদর্শ হকার্স মার্কেট, বঙ্গ গুলিস্তান, এনেক্সকো মার্কেট ও মহানগর শপিং কমপ্লেক্স। এছাড়াও বিপরীত পাশে ইসলামিয়া মার্কেট আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বঙ্গ ও আদর্শ হকার্স মার্কেটের আর কিছু অবশিষ্ট নাই। এ মার্কেটের ঠিক পিছনে পূর্বপাশে পুলিশ সদর দফতর। মার্কেটের আগুন গিয়ে লাগে পুলিশ সদর দফতরের বাউন্ডারির ভেতরে ব্যারাক ভবনে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ব্যারাক ভবনের নীচে পলমার্ট নামের একটি শপ ছিল। সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মহানগর শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, শুধু মহানগর মার্কেটেই ৮০০ দোকান রয়েছে। যেগুলোর বেশিরভাগই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বঙ্গ ও আদর্শ মার্কেটেই ২৩৭০টি দোকান ছিল। এখন আর কিছুই নেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।