শনিবার , ১৫ জুন ২০২৪, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৩৭

পবিত্র হজ আজ: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

ডেস্ক রিপোর্ট
জুন ১৫, ২০২৪ ১২:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আজ শনিবার পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাতের ময়দান। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজের এ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।

সৌদি গেজেট জানিয়েছে, এ বছর সারা বিশ্বের প্রায় ১৮০ দেশ থেকে দেড় মিলিয়নেরও বেশি মুসলমান হজ করতে মক্কায় এসেছেন এবং তাদের সাথে আরও কয়েক হাজার দেশীয় হজযাত্রী যোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মক্কায় পৌঁছানো হজযাত্রীরা মিনার সুবিশাল তাঁবুর নগরীতে যাওয়ার আগে হজের অন্যতম বাধ্যতামূলক অনুষ্ঠান তাওয়াফ আল-কুদুম (আগমনের তাওয়াফ) পালন করেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মহৎ ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করে, হজযাত্রীরা মিনায় তরবিয়া দিবসে দিনরাত কাটান। হজের আনুষ্ঠানিকতার প্রথম দিনে শুক্রবার, তারা প্রার্থনায় নিয়োজিত হয় এবং আজ শনিবার বার্ষিক তীর্থযাত্রার শীর্ষস্থান চিহ্নিত করে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ আরাফাতে দাঁড়ানোর (উকূফ) চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবে।

হজের ফরজের মধ্যে একটি হচ্ছে আরাফাতে অবস্থান। আজ তারা ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতির মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে গুনাহ মাফের আকুল আবেদন করবেন। তাদের মুখে উচ্চারিত হবে ‘‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা, ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’’। অর্থাৎ ‘আমি উপস্থিত হয়েছি হে আল্লাহ। আমি উপস্থিত হয়েছি তোমার সমীপে। তোমার কোনো শরিক নেই। পুনরায় আমি উপস্থিত হয়েছি। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা ও সকল নিয়ামত শুধু তোমারই জন্য। সব সাম্রাজ্যও তোমার এবং তোমার কোনো শরিক নেই।’

সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে সমবেত মুসলমানরা আজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে যাবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁরা বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এ ময়দানের চারদিকে হলুদ বোর্ড দিয়ে চিহ্নিত এলাকার ভেতরে অবস্থান করবেন। এখানেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। তারা অসহনীয় গরম উপেক্ষা করে প্রায় সার্বক্ষণিক জিকিরে মশগুল রয়েছেন। তালবিয়া পড়ছেন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় আল্লাহতায়ালার আনুগত্য প্রকাশ করছেন। তিন দিক থেকে পাহাড় পরিবেষ্টিত আরাফাত ময়দানে রয়েছে রহমতের পাহাড় (জাবালে রহমত)। দোয়া কবুলের স্থান হওয়ায় অনেকেই এ পাহাড়ে উঠে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।

১৪শ বছরেরও বেশি সময় আগে এ ময়দানেই বিদায় হজের খুতবা দিয়েছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ কারণে আরাফাত ময়দানে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার পর যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অসুস্থদের অনেকেই হুইলচেয়ারে করে এ ময়দানে আসেন।

আজ জোহরের নামাজের আগে আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বরে দাঁড়িয়ে আরবি ভাষায় হজের খুতবা পাঠ করা হবে। এবার খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব ড. শেখ মাহের বিন হামাদ। হজের খুতবা বাংলাসহ প্রায় ১৫টি ভাষায় অনুবাদ করে শোনানোর প্রস্তুতি রয়েছে। খুতবার পর মসজিদে নামিরায় সমবেত মুসলমানরা এক আজান এবং দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন। কারোর অবস্থান দূরে থাকলে তিনি নিজের তাঁবুতে আলাদাভাবে আদায় করবেন জোহর এবং আসরের নামাজ।

সূর্য অস্ত যাওয়ার কিছু সময় পরে হজযাত্রীরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাত ময়দান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। মুজদালিফায় গিয়ে এশার নামাজের সময় একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর সেখানেই খোলা আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠে রাত যাপন করবেন। এর আগে প্রতীকী শয়তানের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপের জন্য তারা সেখান থেকে ৭০টি পাথর সংগ্রহ করবেন। এর পরের দিন হজযাত্রীরা ফজরের নামাজ আদায়ের পর সূর্যোদয়ের আগে কিছু সময় অবশ্যই মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। এরপর তারা যাবেন মিনায়।

মিনার জামারায় (শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছোঁড়ার স্থান) বড় শয়তানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী সাতটি পাথর নিক্ষেপ শেষে পশু কোরবানি এবং রাসুলুল্লাহর (সা.) আদর্শ অনুসরণে পুরুষরা মাথা মুণ্ডনের পর গোসল করবেন। নারীরা চুলের অগ্রভাগ থেকে প্রায় এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল কাটবেন। এরপর হাজিরা সেলাইবিহীন ইহরাম খুলবেন। এরপর হাজিরা মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে সুবেহ সাদিকের পর থেকে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। কাবা শরিফের সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাতবার ‘সাই’ (দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার ফিরে যাবেন মিনায়, নিজেদের তাঁবুতে।

হজযাত্রীরা ১১ জিলহজ আবার জামারায় গিয়ে জোহরের নামাজের পর থেকে পর্যায়ক্রমে ছোট, মধ্যম ও বড় শয়তানকে সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। একইভাবে ১২ জিলহজ আবারও ছোট, মধ্যম ও বড় শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপের পর সন্ধ্যার আগে তারা মিনা ত্যাগ করবেন। ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময়ে কাবা শরিফকে ফরজ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।