চাকরিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের কোটা বাতিলের দাবি এবং ডিপ্লোমা হোল্ডারদের অযৌক্তিক দাবির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ডিপ্লোমাদের শতভাগ সীট নিশ্চিত) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার কলেজ ক্যাম্পাসে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় তারা প্রকৌশল নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী হওয়া, কারিগরি দশম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী ব্যতীত অন্য কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবে না মর্মে আইন পাশ করে গেজেট প্রকাশ করার দাবি জানান।
এসময় শিক্ষার্থীরা- ‘ডিপ্লোমাদের দৌরাত্ম থামিয়ে দিতে হবে! কোটা প্রথা নিপাক যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক!’ স্লোগান দেন।
এসময় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিএসসি ৩য় বর্ষের ছাত্র জীমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কলেজে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। পুরকৌশল বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাছান বলেন, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারীরা পদোন্নতি ও নিয়োগে ন্যায্যতা থেকে অনেকদিন ধরেই বঞ্চিত হয়ে আসছেন। দীর্ঘ ৪ বছর কঠিন পাঠ্যক্রম, ল্যাব, থিসিস ও প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে পাস করা বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা চাকরির বাজারে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি চাকরির দশম গ্রেডে একচেটিয়া শতভাগ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ এবং নবম গ্রেডে পদোন্নতিতে ৩৩.৩ শতাংশ কোটা আছে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের। অধিকন্তু নবম গ্রেডে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোটার ব্যবস্থা ৫০ শতাংশ করার অন্যায্য দাবিও জানিয়ে আসছিলো তাঁরা।
তিনি আরো বলেন, সরকারি নিয়োগে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রাধান্য ও বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের উচ্চতর পদে প্রবেশে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্যতা লঙ্ঘন করে। কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। অভ্যুত্থানের পরেও চাকরিক্ষেত্রে এরকম অন্যায্য কোটা থাকা জুলাই শহিদদের রক্তের সাথে বেইমানি। তাই অনতিবিলম্বে এ কোটা প্রথা বাতিল চান তাঁরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল সকল স্তরের বৈষম্য দূরীকরণের আন্দোলন। বিএসসি প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে চলমান দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান আজ সময়ের দাবি। ডিপ্লোমাধারীরা অন্যায়ভাবে কোটা সুবিধা ভোগ করছে। তারা দশম গ্রেড কুক্ষিগত করে রেখেছে এবং পরবর্তীতে ৩৩ শতাংশ বা বেশি কোটা নিয়ে সরাসরি নবম গ্রেডে পদোন্নতি পাচ্ছে, যা বিসিএস সমমানের।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আমরা প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের সিট নিশ্চিত করি। কিন্ত ডিপ্লোমা হোল্ডাররা প্রস্তাবিত ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তাদের শতভাগ সীট নিশ্চিতের অযৌক্তিক দাবি করতেছে।
