সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূ ছালেখা (৫২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার তিনজনকে এজাহারনামীয় ও তিন-চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের মেয়ে তাসলিমা বেগম।
মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের পুরান বালুচর গ্রামের মোতালিবের পুত্র নিজাম উদ্দিন, রাশিদ আলমের পুত্র ইমরান ও নিহত ছালেখার সাবেক স্বামী আব্দুর রউফ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায়। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এজাহারনামীয় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ছালেখার লাশ তাঁর পিতার বাড়ি বতুমারা গ্রামে পৌঁছে। সেখানে তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। রাত সাতটায় জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের পুরান বালুচর গ্রামে বসতঘর থেকে ছালেখার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, ছালেখা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বতুমারা গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের মেয়ে। ছালেখার স্বামী আব্দুর রউফ প্রায় দেড় বছর আগে আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে। এরপর থেকে তিনি নিজ ঘরে একা থাকতেন।
গ্রামের লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশীরা তার ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছালেখার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাই আব্দুল খালিক জানান, খবর পেয়ে বতুমারা থেকে এসে দেখি মেঝেতে লাশ পড়ে রয়েছে। ছালেখার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আব্দুস সামাদ (২৫) ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। ছোট ছেলে মুস্তাকিম (১৪) সিলেটের কুমারপাড়ার একটি বাসায় কাজ করে। বড় মেয়ে কুটিলা বেগমের বিয়ে হয়েছে চট্টগ্রামে। অন্য তিন মেয়ে নাছিমা, মাছুমা ও তাছলিমা ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করে।
